চেন্নাই: বিরাট বনাম ধোনি! চিপকের মহারণ এভাবেই চিহ্নিত হচ্ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই সুপার কিংসের লড়াই যেন দুই মহাতারকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চ। আর সেই দ্বৈরথে একেবারেই নিষ্প্রভ দেখাল কোহলিকে। গ্লাভস হাতে ধোনি অবশ্য যথারীতি ছিলেন সজাগ। তবে শেষ হাসি হাসল ভিকে’র রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুই। তারা ৫০ রানে হারাল চেন্নাই সুপার কিংসকে। ২০০৮ সালের পর চিপকে এটা সিএসকে’র বিরুদ্ধে তাদের প্রথম জয়।
ইডেনে চলতি আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে দুরন্ত ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন বিরাট। কিন্তু শুক্রবার মেরিনা বিচের পাড়ে আগাগোড়া ছন্দ হাতড়ে বেড়ালেন তিনি। ব্যাটে-বলে হল না বেশিরভাগ স্ট্রোকই। একবার তো মাথিশা পাথিরানার বাউন্সার লাগল হেলমেটে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে দৌড়ে এলেন ফিজিও। মাথায় বল লাগার পর অবশ্য সাময়িক জ্বলে উঠেছিলেন ভিকে। যে বিরাট টাইমিংয়ের গণ্ডগোলে ভুগছিলেন, সেই তিনিই পরের বলেই হাঁকালেন ছক্কা। পাথিরানার ফের বাউন্সার দেওয়াই হয়তো উস্কে দিয়েছিল ইগো। পরের বলেও মারলেন বাউন্ডারি। তবে বেশিক্ষণ স্থায়ী হল না ব্যাট হাতে তাঁর উপস্থিতি। নুর আহমেদকে মারতে গিয়ে সটান ক্যাচ দিলেন ডিপ মিড উইকেটে। হতাশ বিরাট ফিরলেন মাথা নাড়তে নাড়তে। ৩০ বলে এই ৩১ যে একেবারেই কোহলিসুলভ নয়!
বিপরীতে স্টাম্পের পিছনে ধোনি যথারীতি নিখুঁত। আরও একবার বিদ্যুৎগতির স্টাম্পিং তুলে ধরল তাঁর ক্ষিপ্রতা। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে সূর্যকুমার যাদবকে যেভাবে পলকের মধ্যে স্টাম্পড করেছিলেন, ঠিক যেন তারই অ্যাকশন রিপ্লে। তবে এদিন আরও কম সময় (০.০৯ সেকেন্ড) নিলেন তিনি। তফাত ফিল সল্ট এক্ষেত্রে খুব সামান্যই এগিয়েছিলেন। বেল ফেলে দেওয়ার পক্ষে ধোনির জন্য অবশ্য সেটাই ছিল যথেষ্ট। ৪৩ বছর বয়সেও এমন তৎপরতা ও তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি জিনিয়াস ছাড়া সম্ভব নয়। তবে ৯ নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে তিনি করলেন ১৬ বলে ৩০ রান(নট আউট)।
চিপকের বাইশ গজ অবশ্য যথারীতি ছিল মন্থর। সিএসকে বোলাররা জোর দিয়েছিলেন স্লোয়ারে। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারানোয় আরসিবি ইনিংসে বড় জুটি গড়েও ওঠেনি। সফরকারী দল শেষ পর্যন্ত সাত উইকেট হারিয়ে তোলে ১৯৬। চিপকে যা সিএসকে’র বিরুদ্ধে তাদের দ্বিতীয় সর্বাধিক স্কোর। ক্যাপ্টেন রজত পাতিদার ৩২ বলে করেন ৫১। তাতে ছিল চারটি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কা। অবশ্য ১৭ রানে জীবনদান পান তিনি। তাঁর দুটো মিসহিটের সুবিধাও নিতে পারেননি চেন্নাইয়ের ফিল্ডাররা। দু’বারই পড়ে ক্যাচ। শেষদিকে টিম ডেভিডের ধুমধাড়াক্কাই (আট বলে অপরাজিত ২২) দুশোর কাছাকাছি পৌঁছে দেয় স্কোর। ইনিংসের শেষ ওভারে স্যাম কারানকে তিনটি ছক্কা মারেন তিনি। আরসিবি’র হয়ে পাতিদার, কোহলি ছাড়া রান পান ফিল সল্ট। লিয়াম লিভিংস্টোন (১০), জিতেশ শর্মা (১২) ব্যর্থ। ৩৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে চেন্নাইয়ের সফলতম বোলার নুর। চলতি আসরে সাত উইকেট নিয়ে শার্দূল ঠাকুরকে টপকে তিনিই এখন পার্পল ক্যাপের মালিক। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা, অবশ্য সম্মিলিতভাবে মোট পাঁচ ওভারে দেন ৫৯ রান।
১৯৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে আট উইকেট হারিয়ে চেন্নাই সুপার কিংস থামে ১৪৬ রানে। রাহুল ত্রিপাঠি (৫), ক্যাপ্টেন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়রা (০) ফেরেন দ্রুত। ১৩তম ওভারে রাচীন রবীন্দ্র (৪১) ও শিবম দুবেকে (১৯) বোল্ড করেন যশ দয়াল। চেন্নাই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। আরসিবি’র সফলতম বোলার জস হ্যাজলউড (৪-৩)।