Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ক্যাপ্টেনকে খেলাতে মরিয়া নাইটরা

ক্যাপ্টেনকে খেলাতে মরিয়া নাইটরা
  • ৩ মে, ২০২৫ ১৫:০৫
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: ডান হাতের বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর মধ্যে আঁটা লিউকোপ্লাস্ট। শুক্রবার নাইট শিবিরের যাবতীয় উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা আর উৎকণ্ঠার কেন্দ্রে অজিঙ্কা রাহানের ওই ছোট্ট ব্যান্ডেজই। সোমবার কোটলায় দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচে চোট পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে আঙুলে। আর সেজন্যই তিরতিরে আশঙ্কা থাকছে। রবিবার দুপুর তিনটেয় নন্দনকাননে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে তিনি টস করতে যাবেন তো!

Advertisement

গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এখন কার্যত খাদের কিনারায়। ১০ ম্যাচে ঝুলিতে মাত্র ৯ পয়েন্ট, ঘাড়ের উপর ঝুলছে খাঁড়া। বাকি চারটি ম্যাচই জিততে হবে। না হলে প্লে-অফের দরজা মুখের উপর বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা। এমন পরিস্থিতিতে অধিনায়কের উপর অনেক কিছুই নির্ভরশীল। যতই খোঁচা দিয়ে বলা হোক— ঝড় তুলতে পারেন না, ৭০ করতেও নেন অন্তত ৪৫ বল, তবুও রাহানে অন্তত রানটা করেন। কোটি কোটি টাকার মালিকরা তো ব্যাট হাতে খোঁড়াচ্ছেন। বেঙ্কটেশ আয়ার  তারপরও নেটে যতক্ষণ থাকলেন, তার চেয়ে বেশি সময় ইন্টারভিউয়ের  ক্যামেরাকে দিলেন। সিইও বেঙ্কি মাইসোরকে দেখা গেল, সেজন্যই রাহানের চোট নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন। কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতও লম্বা সময় কথা বললেন ক্যাপ্টেনের সঙ্গে। আকুতিতে পরিষ্কার, আঙুল যেমনই থাক, খেলতে হবে। রাহানে অবশ্য এদিন ইডেনে ব্যাটিংয়ের ধারকাছ দিয়েও গেলেন না। রিঙ্কু সিং আর রভম্যান পাওয়ালের ব্যাট টেনে নিয়ে বড়জোর সামান্য শ্যাডো প্র্যাকটিস করতে দেখা গেল তাঁকে। নাইট শিবিরের অন্দরমহল যদিও তাঁকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। ইতিবাচক স্বয়ং তিনিও। ব্যাটিং না করলে ব্যথা লাগছে কিনা, তা যদিও বোঝা সম্ভব নয়! 
দুপুর তিনটের গায়ে জ্বালা ধরানো গরমে অনুশীলন শুরু করেছিলেন নাইটরা। প্রথা মাফিক, প্রথমে দল বেঁধে ফুটবল, তারপর ফিল্ডিং ড্রিলস। বেগুনি তোয়ালে মাথায় আন্দ্রে রাসেল, চওড়া টুপি পরা কোচ, মাঠের মধ্যে বারবার পানীয় জলের বোতলের প্রবেশ— স্পষ্ট হচ্ছিল উত্তাপ। গুরবাজ অবশ্য ফুটবলের দিকে যানইনি। তিনি ব্যাট হাতে নেটেই টানা পড়ে রইলেন প্রায় ঘণ্টাখানেক। রানের জন্য বদ্ধপরিকর, বার্তা থাকল। তবে বেগুনি জার্সিধারীরা লভনীত সিসোদিয়াকেও কিপার হিসেবে খেলানোর কথা ভাবছে। আবার জোফ্রা আর্চারের কথা মাথায় রেখে গুডলেংথ স্পট থেকে লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারির জন্য থাকল বিশেষ প্রস্তুতি। 
বাইশ গজকে অবশ্য ঘাসহীন ন্যাড়াই লাগছে। দিল্লির বিরুদ্ধে তফাত গড়ে দেওয়া সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তীর জন্য নিশ্চিতভাবেই থাকবে সুবিধা। হাসারাঙ্গা, থিকশানা, কার্তিকেয়র মতো রাজস্থানের স্পিনারদের ছন্দে না থাকা সেজন্যই স্বস্তির। তবে বছর ১৪’র বৈভব সূর্যবংশীর বাড়তি তাগিদ চাপে ফেলতে পারে। যশস্বী জয়সওয়ালও আছেন। রিয়ানরা যতই প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে যান, পচা শামুকেও পা কাটে। সাধে ক্যাপ্টেনকে খেলাতে মরিয়া নাইটরা!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ