Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইপিএফ ভিত্তিক ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির   সুযোগ কোথায় বাজেটে! হতাশ প্রবীণরা

ইপিএফ ভিত্তিক ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির   সুযোগ কোথায় বাজেটে! হতাশ প্রবীণরা
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম বা ইপিএস-এর আওতাভুক্ত প্রবীণ নাগরিকরা আশায় ছিলেন, বাজেটে তাঁদের জন্য সুখবর বয়ে আনবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি ন্যূনতম পেনশন ১ হাজার টাকা থেকে বাড়াবেন। কিন্তু তেমন কোনও ঘোষণাই হয়নি। বাজেট শেষে দেখা গেল, শ্রমমন্ত্রকের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তাতে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির সুযোগ প্রায় নেই। বিষয়টিতে হতাশ প্রবীণরা। বঞ্চনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (ইপিএফও) কেন্দ্রীয় অছি পরিষদ সদস্য শিওপ্রসাদ তিওয়ারি। 
Advertisement
ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির জন্য বছরের পর বছর ধরে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন প্রবীণরা। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে বিপুল পরিমাণ টাকা পেনশন তহবিলে জমা আছে, তাতে ইচ্ছা করলে অনেক আগেই পেনশন বাড়াতে পারত কেন্দ্র কিন্তু তা হয়নি। এদিকে প্রতিটি কর্মীর বেতন পিছু সরকার ১.১৬ শতাংশ টাকা ভর্তুকি বাবদ জমা করে পেনশন খাতে।  সদ্য প্রকাশিত ইপিএফও’র ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের বার্ষিক রিপোর্ট বলছে, সরকার এই ভর্তুকি বাবদ খরচ করেছে ৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি যাঁদের ন্যূনতম পেনশন এক হাজার টাকার কম, তাঁদের জন্য সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়। কারণ, সরকারই ঘোষণা করেছে, ন্যূনতম এক হাজার টাকা পেনশন দেওয়া হবে। এই ভর্তুকি বাবদ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে সরকারের খরচ হয়েছে ৯৫৮ কোটি টাকা। এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য শ্রমমন্ত্রকের বাজেট বরাদ্দে দেখা যাচ্ছে, ইপিএস-৯৫ স্কিমের জন্য রাখা হয়েছে ১১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বরাদ্দ থেকেই স্পষ্ট, সরকার ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর সুযোগ খুব একটা রাখেনি বাজেটে। যদিও পরবর্তীকালে ‘রিভাইজড’ বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির সুযোগ সবসময় থেকেই যায়।    
পেনশন না বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন টিউসিসি’র সাধারণ সম্পাদক শিওপ্রসাদ তিওয়ারি। তাঁর কথায়, সরকার মধ্যবিত্তের জন্য যে করছাড় ঘোষণা করেছে, তা আনন্দের। উৎপাদন শিল্প, ও এমএসএমই’র জন্যও যে হরেক প্রকল্প ঘোষিত হয়েছে এবং প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সাবির্কভাবে দেশের উন্নয়নে সাহায্য করবে। কিন্তু আমরা ৭৮ লক্ষ প্রবীণের পেনশন বাড়ানোর জন্য যথোপযুক্ত জায়গায় বারবার আর্জি জানিয়েছি। প্রাক-বাজেট বৈঠকেও তা জানানো হয়েছে নির্মলা সীতারামনকে। কিন্তু বাজেটে তার 
ছাপ দেখা গেল না। আমরা চেয়েছিলাম, সামাজিক খাতে বরাদ্দ বাড়ুক। আশা ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন বাড়ুক। ইএসআইয়ের সুযোগ দেওয়া হোক আশা ও অঙ্গনওয়াড়ির পাশাপাশি নির্মাণ কর্মীদেরও। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানো হোক। অথচ গিগ কর্মীদের ই-শ্রম পোর্টালে নাম নথিভুক্তির সুযোগ ছাড়া তেমন কিছুই করা হয়নি বাজেটে। ঈশ্বরই জানেন, কবে কেন্দ্রীয় বাজেটে অসংগঠিত ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ