আইপ্যাক মামলা : ইডির সিবিআই তদন্তের আবেদনে রায়দান স্থগিত
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আইপ্যাক মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ইডির দায়ের করা আবেদনে বৃহস্পতিবার রায়দান স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ এই মামলায় ইডি যে সিবিআই তদন্ত দাবি করছে, তা হবে কি না, সিদ্ধান্ত হবে পরে।

Advertisement

পুরানো এক কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের অন্যতম ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি, অফিসে হানা দেয় ইডি। তদানীন্তন ডিজিপি রাজীব কুমার সহ আরও কয়েকজন পুলিস অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে সেই কাজে বাধা দেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছিনিয়ে নেন বলেও অভিযোগ। আইপ্যাক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা হিসাবে কাজ করছিল। এভাবে তল্লাশিতে বাধা দেওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের ও তদন্তের দাবিতে ইডি এবং তার আধিকারিক সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। যদিও ইডি এভাবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না বলেই শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন মমতার আইনজীবী কপিল সিবাল। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, এখন তো রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার। তাহলে তদন্ত তো  রাজ্য সরকারই করতে পারে। রাজ্য সরকারই সিবিআই তদন্ত চাইতে পারে।তাহলে ইডি এখানে আদালতে কেন সিবিআই তদন্ত চাইছে? আদালত এ ব্যাপারে কেন নির্দেশ দেবে? 
সেই সওয়াল শুনে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ ইডির আইনজীবী এস ভি রাজুকে প্রশ্ন করেন, এখন তো সরকার বদলেছে। তাহলে সরকারই কেন সিবিআই তদন্ত চাইছে না? ইডি কেন সিবিআই তদন্ত চাইছে? এখন তো আপনারা নিজেরাই করে নিতে পারেন। কটাক্ষের সুরে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর মন্তব্য, তাহলে আর ডবল ইঞ্জিন সরকার হয়ে কী হল! জবাবে রাজু বলেন, সেটা হলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ উঠতে পারে। তাছাড়া রাজ্যের কয়েকজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকও এই মামলায় অভিযুক্ত হিসাবে রয়েছেন। ফলে তাঁরা তদন্তকে প্রভাবিত করার অবস্থানে থাকতে পারেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ইডির এই আবেদনে প্রতিপক্ষ হিসাবে রয়েছেন তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের পুলিসের ডিজি রাজীব কুমার, তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজকুমার বর্মা এবং তৎকালীন দক্ষিণ কলকাতার ডেপুটি কমিশনার প্রিয়ব্রত রায়। তাই আমরা চাই সিবিআই তদন্ত। সওয়াল-জবাব শুনে সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দিল, রায় রিজার্ভ রাখা হল।