নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রে রেকর্ড পরিমাণ ‘ক্রেডিট লেন্ডিং’ হল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে। সদ্যসমাপ্ত আর্থিক বছরে এই শিল্পক্ষেত্রে ব্যাঙ্কঋণের মাধ্যমেই ১ লক্ষ ৮২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে। ২০১১ সালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা।
ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নতির জন্য গত ১৩ বছরে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটির (এসএলবিসি) সঙ্গে বৈঠক থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ ক্রেডিট কার্ডের মতো প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জেলায় জেলায় সিনার্জির আয়োজন করে ক্ষুদ্র শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। ২০২১ সালে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে রাজ্যকে শিল্পে এক নম্বর স্থানে তুলে আনার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন থেকেই ওই লক্ষ্যে কাজ শুরু করে নবান্ন। আরও বেশি সংখ্যায় ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প ইউনিট চালুর জন্য বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়। ইতিমধ্যে চালু হয়ে যাওয়া ইউনিটগুলির কর্মক্ষমতা ও বহর বৃদ্ধির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ক্ষুদ্রশিল্পের বহু উদ্যোক্তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাঙ্কঋণ হাতে পেয়ে তাঁদের বাণিজ্য বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যেতে পেরেছেন। ফলে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে অনেক। রাজ্যের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ক্রেডিট লেন্ডিংয়ের নিরিখে অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা।
ইতিমধ্যে বাংলা ক্ষুদ্র শিল্পে বাংলা দেশের এক নম্বর স্থানে উঠে এসেছে। বস্ত্র, ফাউন্ড্রি, গয়না, হোসিয়ারি, চামড়ার বিভিন্ন পণ্য সহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রায় সবক’টি ক্ষেত্রেই বেড়েছে ‘ক্রেডিট লেন্ডিং’। ফলে ২০২৩-২৪ অর্থিক বছরের ১ লক্ষ ৪৮ হাজার কোটি টাকার তুলনায় পরের বছর ৩৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ‘ক্রেডিট লেন্ডিং’ নিশ্চিত করেছে রাজ্য। এক পদস্থ কর্তা জানান, আগামী অর্থবর্ষে এই ব্যাঙ্কঋণের অঙ্ক ২ লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।