নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: মঙ্গলবার ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ মাঝপথে থমকে গেল। সাক্ষ্য গ্রহণ করার জন্য যে নথি তদন্তকারী অফিসারের দেওয়ার কথা তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন অভিযুক্তর আইনজীবীরা। দুর্গাপুর আদালতে বিচারক লোকেশ পাঠকের উপস্থিতিতে সরকারি আইনজীবী এজলাসের মধ্যেই তদন্তকারী অফিসারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ করার কথাও জানান সরকারি আইনজীবী বিভাস চক্রবর্তী। এজলাস চলাকালীন তদন্তকারী অফিসার এমন কোনো নথি দেখাতে পারেননি যাতে তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে, সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত নথি অভিযুক্তদের আইনজীবীর কাছে দেওয়া হয়েছে। সাক্ষী উপস্থিত থাকলেও মাঝপথেই থেমে যায় সাক্ষ্য গ্রহণ। ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলায় এই ঘটনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আইনজীবী মহলে শোরগোল পড়েছে।
দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে নির্যাতিতা ছাড়া ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে পুলিশ এই মামলার অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হল অভিযুক্তদের টাওয়ার লোকেশান। মোবাইলে তাদের কথোপকথনের বিস্তারিত নথি। তদন্তের স্বার্থে একটি বহুজাতিক টেলিকম সংস্থাকে ছ’টি মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইলস রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছিলেন তদন্তকারী অফিসার। ওই নম্বরগুলি সেই নির্দিষ্ট সময়ে কোথায় ছিল তা জানতে টাওয়ার লোকেশন চেয়ে পাঠানো হয়। গণধর্ষণ যে সময়ে হয়েছিল, সেই সময়ে ওই ফোনগুলির অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার ওই বহুজাতিক সংস্থার নোডাল অফিসার অরিত্র রক্ষিতের সাক্ষ্য গ্রহণ ছিল। সরকার পক্ষের আইনজীবী তাঁর দেওয়া নথিগুলি নিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপরই অভিযুক্তের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু সাক্ষ্য নিতে গিয়ে অভিযোগ করেন, যে নথির ভিত্তিতে আমি তাঁকে প্রশ্ন করব সে সব নথি আমাকে দেওয়া হয়নি। বিচারক লোকেশ পাঠক সরকারি আইনজীবীকে বিষয়টি দেখতে বলেন। সরকারি আইনজীবী বিভাস চক্রবর্তী তদন্তকারী অফিসার গৌতম বিশ্বাসকে ডেকে পাঠান। উল্লেখিত নথিগুলি দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চান। বিচারক এজলাসে উপস্থিত থাকাকালীন তদন্তকারী অফিসার বলেন, এই নথিগুলি আমার কাছেই রয়েছে। তারপর সেই নথি তদন্তকারী অফিসার হাতে তুলে দিতেই তিনি ভর্ৎসনার মুখে পড়েন। আইনজীবী বলেন, আমি নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন আপনি নথি অভিযুক্তদের আইনজীবীকে দেননি। তাঁকে শান্ত করতে হয় বিচারক লোকেশ পাঠককে। সাক্ষ্য গ্রহণ মাঝপথে থেমে যায়। ২০ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়। শুনানি হয়ে যাওয়ার পর তদন্তকারী অফিসার গৌতম বিশ্বাস সরকারি আইনজীবীকে কিছু নথি দেখান। সেখানে তিনি দাবি করেন, পর্যাপ্ত নথি অভিযুক্তদের হাতে আগেই দেওয়া হয়েছে। তবে এই দিনের অন্তর্বর্তীকালীন অর্ডারের পর এই কথার আর কোনো মূল্য ছিল না।
ওদিকে বহুজাতিক টেলিকম সংস্থার অন্যতম শীর্ষ কর্তা অরিত্র রক্ষিতকে হাতের কাছে পেয়ে আইনজীবী থেকে বিচারক একযোগে অভিযোগ করেন, আপনাদের সংস্থার মোবাইল নেটওয়ার্ক এখানে খুবই দুর্বল। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।