নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এবার আর দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনে নয়। তার একদিন আগেই আগামী ১৩ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার (আইআইটিএফ)।’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। চলবে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। মূল থিম ‘বিকাশ অউর বিরাসত।’ উন্নতি এবং ঐতিহ্য। মেলার উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। এবার মেলায় ‘ফোকাস স্টেট’ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাই কীভাবে বাংলাকে দিল্লির এই আন্তর্জাতিক মেলায় তুলে ধরা হবে, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের একাধিক দপ্তরে চলছে আলোচনা। কী হবে মেলার মডেল, তা নিয়ে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার রাজধানীর এই মেলায় নতুন বাংলা গড়ার স্বপ্নকে তুলে ধরবে।
বিনিয়োগ হোক বিনোদন, স্বনির্ভরতা হোক বা সনাতনী, পশ্চিমবঙ্গ যে আর আগের মতো নেই, তার ওপর জোর দেওয়া হবে। মেলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবির পাশাপাশি থাকবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাটআউট। রাখা হবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে নেতাজি, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ সহ বাংলার কৃতি সন্তানদের ছবিও। কী হবে ডিজাইন, তা নিয়ে চলছে সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে বৈঠক। মেদিনীপুরের শিল্প এবং শিল্পীদের বিশেষভাবে মেলায় তুলে ধরা হবে বলেই জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘ফোকাস স্টেট’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে রাজ্য সরকারকে ২৬ লক্ষ টাকা, সঙ্গে জিএসটি খরচ করতে হবে। এটি স্রেফ মেলায় ৭৫০ বর্গ মিটার জায়গা পাওয়ার জন্য। বাকি প্যাভিলিয়ন সাজানোর খরচ আলাদা। ফোকাস স্টেটের পাশাপাশি আগামী ২২ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘স্টেট ডে’ পালন করবে। সেদিন রাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় আসবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে অনেকেই চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী আসুন।
এমনিতে প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর এই মেলা শুরু হয়। গত ৪৪ বছর ধরে বলতে গেলে এই তারিখ ছিল নির্দিষ্ট। আগে মেলা হতো প্রগতি ময়দানে। মোদি সরকার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রগতি ময়দান। গড়া হয়েছে ভারত মণ্ডপম। সেখানেই হবে মেলা। তবে কি আচমকাই নেহরুর নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা তারিখে আপত্তি মোদি সরকারের? সেই কারণেই এবার ৪৫ তম বর্ষে তারিখ বদল? ওয়াকিবহাল মহলে উঠছে প্রশ্ন। আইটিপিও’র আয়োজনে বিভিন্ন রাজ্য তো বটেই, মেলায় অংশ নেয় অন্য দেশও। মেলার প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য সাধারণ দিনে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা। সরকারি ছুটির দিনে ২০০ টাকা। শিশুদের ক্ষেত্রে ছুটির দিনে ১০০। সপ্তাহের বাকি দিন ৫০ টাকা। সিনিয়র সিটিজেন এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য প্রবেশমূল্য নেই।



