নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: খড়িবাড়িতে গোষ্ঠীকোন্দলে জেরবার পদ্ম শিবির। চার দিনে বিজেপির রানিগঞ্জ-বিন্নাবাড়ি মণ্ডল কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন দু’জন নেতা। যাঁদের মধ্যে একজন মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি মণ্ডলের সভানেত্রীর বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের জেলা কমিটির একাংশের মদতে কমিটিতে একনায়কতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করছেন সভানেত্রী। যদিও, সভানেত্রী অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, ওই পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদকই সহযোগিতা করছেন না। এব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে দলের জেলা কমিটি। সমগ্র পরিস্থিতিতে সরগরম স্থানীয় রাজনীতি।
বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল অবশ্য বলেন, ওই মণ্ডল থেকে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি। এব্যাপারে খোঁজখবর নেব। তবে দলের কোথাও কোনও কোন্দল নেই। বিজেপির জেলা সভাপতি যাই বলুন না কেন খড়িবাড়িতে পদ্ম শিবিরের কোন্দল কার্যত প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দলীয় সূত্রে খবর, খড়িবাড়ি ব্লকে দু’টি মণ্ডল কমিটি বিজেপির। যার মধ্যে রানিগঞ্জ-বিন্নাবাড়ি একটি। এই কমিটির সদস্য সংখ্যা ৬১ জন। তারমধ্যে ১৬ জনের কার্যকরী কমিটি। তাতে দু’জন সাধারণ সম্পাদক। গত ৩১ আগস্ট একজন সাধারণ সম্পদক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর নাম তাপস মাঝি। এর আগে ২৯ আগস্ট পদত্যাগ করেছেন রানিগঞ্জ-বিন্নাবাড়ি মণ্ডলের ২ নম্বর শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ সোবিন্দ বর্মন।
ওই দু’জনের মধ্যে তাপস বিজেপির দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মী। অন্দরানজোতে তাঁর বাড়ি। নার্সারির ব্যবস্যা থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একদা যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের মণ্ডল কমিটির সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন। তিনি বলেন, মণ্ডল কমিটির সভানেত্রী সকলকে নিয়ে দল চালাতে পারছেন না। নিয়মিত কমিটির বৈঠক করছেন না। কোনও কর্মসূচি নেই। তিনি নিজের মতো করে চলছেন। তাঁর অভিযোগ, সকলকে না জানিয়ে দলে একনায়কতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করছেন সভানেত্রী। এজন্য আরও কয়েকজন কমিটি থেকে পদত্যাগ করবেন।
শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ থেকে পদত্যাগকারী নেতার প্রতিক্রিয়া অবশ্য মেলেনি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মণ্ডলের সভানেত্রী নির্বাচিত হন রিনা মণ্ডল। তিনি পেশায় টেইলার। তিনি বলেন, মণ্ডলে কোনও সমস্যা নেই। ওই সাধারণ সম্পাদক নিজেই মর্জিমাফিক চলছেন। তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি দলের জেলা কমিটির কাছে জানানো হয়েছে। তিনি ছাড়া মণ্ডলের আরও কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনও কথা বলবেন না বলেই আশা করি। শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখকেই সেই পদে ফেরানো হবে।