


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পশ্চিম এশিয়ায় ভয়াবহ যুদ্ধের আবহে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গ তার ব্যতিক্রম নয়। ইতিমধ্যে ডিস্ট্রিবিউটরদের দোকানের সামনে উদ্বিগ্ন গ্রাহকদের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। একটি সিলিন্ডার ডেলিভারির ২৫ দিনের মধ্যে নয়া বুকিং না নেওয়ার নিয়মও দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে গ্রাহকদের। এই পরিস্থিতিতে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি রান্নার গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আশার আলো! এতদিন এনিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তেমন কোনো সাড়া না পড়লেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকেই আর সিলিন্ডারের ঝামেলায় না গিয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন গ্যাস সরবরাহ পরিষেবার দিকে ঝুঁকবেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইতিমধ্যে গত শনিবার পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পাইপলাইনে রান্নার গ্যাসের সংযোগ থাকলে তাঁদের এলপিজি সিলিন্ডার ছেড়ে দিতে হবে।
গত বছরের শেষের দিক থেকে রাজ্যের কিছু এলাকায় পাইপলাইনে বাড়ি বাড়ি গ্যাস সরবরাহ শুরু করে বেঙ্গল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। আরও কয়েকটি এলাকায় পরিকাঠামো সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গ্যাস কত খরচ হচ্ছে, তা পরিমাপ করার জন্য ইতিমধ্যে বহু বাড়িতে মিটার পর্যন্ত বসে গিয়েছে। এতকিছুর পরেও পাইপলাইনে গ্যাসের সংযোগ নিতে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি মানুষের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানি সূত্রে খবর, এখনো পর্যন্ত প্রায় ৫৫০টি বাড়িতে এই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে আরও অনেক পরিবারকে এই পরিষেবা দেওয়ার জন্য পরিকাঠামো প্রস্তুত রয়েছে। সূত্রের খবর, নদীয়ার কল্যাণী, হুগলির চন্দননগরের একাংশ সহ আরো কিছু জায়গায় পাইপ বসানোর কাজ অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যেভাবে রান্নার গ্যাসের সংকট চলছে, তাতে পাইপ বাহিত গ্যাসের সংযোগ বিকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি সুরাহা হতে পারে। তারপরও কেন এই সংযোগ নিতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তলানিতে, সেটাই ভাবাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিক ও সংস্থার কর্তাদের। তবে তাঁরা আশা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকেই এবার পাইপলাইন সংযোগের কথা ভাববেন।
সূত্রের খবর, যেখানে যেখানে পাইপলাইন সংযোগ দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে দিয়েছে সংস্থা। এক্ষেত্রে নিয়ম হল ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ হিসাবে পাঁচ হাজার টাকা জমা রাখতে হবে। এই টাকা গ্রাহকদের থেকে ধাপে ধাপে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সার্বিক চাহিদা তাতে খুব একটা বৃদ্ধি পায়নি। উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, নদীয়ার কিছু অংশে ১২ হাজার বাড়িতে মিটার বসানো হয়েছে। সাড়ে পাঁচ হাজার বাড়িতে পাইপলাইনের কাজ শেষ। এসব বাড়িতে চাইলে এখনই গ্যাস সরবরাহ শুরু করে দেওয়া সম্ভব। সংশ্লিষ্ট এক আধিকারিক বলেন, ‘পুরানো ব্যবস্থা থেকে নতুন ব্যবস্থায় সরে আসার জন্য মনস্থির করতে মানুষের কিছুটা সময় লাগে। আমরা প্রচার করছি। আশা করছি, বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে অনেকেই গ্যাসের সংযোগ নিতে এগিয়ে আসবেন।’