Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ডেম্বেলেদের প্রেসিং ফুটবলের সামনেই আত্মসমর্পণ ইন্তারের

ডেম্বেলেদের প্রেসিং ফুটবলের সামনেই আত্মসমর্পণ ইন্তারের
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুধু তারকা সংস্কৃতিতে সাফল্য আসে না, তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন লুই এনরিকে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আশায় মেসি, নেইমার, এমবাপেদের জন্য গত কয়েক বছর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢেলেছেন পিএসজি কর্ণধার নাসের আল খেলাফি। কিন্তু বড় নামের পিছনে দৌড়ে আখেরে লাভ কিছু হয়নি। প্যারিসের দলটির দায়িত্ব নিয়েই সেই ধারণা দ্রুত বদলে দেন লুই এনরিকে। একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলারকে সই করিয়ে যে স্বপ্ন তিনি জাগিয়েছিলেন, শনিবার রাতে তার সফল রূপদান করল ডেম্বেলে-হাকিমিরা। সেমি-ফাইনালে বার্সেলোনাকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো ইন্তার মিলানকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল পিএসসজি। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এতটা একপেশে ফাইনাল আগে কখনও হয়েছে বলে মনে হয় না। বিশ্ব ফুটবল আঙিনায় ইতালিয়ানদের রক সলিড ডিফেন্স বরাবরই যে কোনও দলের কাজ কঠিন করে তোলে। শনিবার রাতে অবশ্য ইন্তার মিলানকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল পিএসজি। ডেম্বেলেদের হাই প্রেসিং ফুটবলের সামনে একবারের জন্যও মাথা তুলে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি সিমোনে ইনজাঘির ছেলেরা। আর তাতেই বাজিমাত করল প্যারিসের ক্লাবটি। প্রতিপক্ষকে পাঁচ গোলের মালা পরিয়ে প্রথমবারের জন্য ইউরোপ সেরার স্বাদ পেল পিএসজি।

Advertisement

শেষ চারের লড়াইয়ে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিল ইন্তার মিলান। তাই স্বাভাবিকভাবেই শনিবারের ফাইনালে কিছুটা হলেও এগিয়ে ছিল লাওতারো মার্তিনেজরা। তুলনায় এই পিএসজি দলে সেই মানের ফুটবলারের সংখ্যা অনেক কম, যারা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তবে সকলকে অবাক করে ম্যাচের শুরু থেকেই প্রেসিং ফুটবল মেলে ধরেন ডেম্বেলে-ভিতিনহারা। এক্ষেত্রে ডেসিরে ডুয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের মতো হাই ভোল্টেজ ম্যাচে কী দুর্দান্ত ফুটবলটাই না খেলল ১৯ বছরের ছেলেটা। ডানদিক থেকে গতি বাড়িয়ে একের পর এক আক্রমণ তুলে আনল। আর তাতেই চুরমার ইন্তারের সাধের ডিফেন্স। ১২ মিনিটে ডুয়েরেরই পাস থেকে পিএসজি’কে এগিয়ে দেয় হাকিমি (১-০)। আট মিনিট বাদে ব্যবধান বাড়ান এই তরুণ ফরাসি উইঙ্গার স্বয়ং। এক্ষেত্রে ভাগ্যও সঙ্গ দিয়েছে পিএসজি’কে। ডুয়ের শট ডিমার্কোর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায় (২-০)। ম্যাচে দু’গোলে পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ এসেছিল ইন্তারের সামনে। প্রথমার্ধের শেষলগ্নে মার্কাস থুরামের হেড তিনকাঠির মধ্যে থাকলে, ব্যবধান কমতেই পারত।
দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিটে ডুয়েরের দ্বিতীয় গোল পিএসজি’র জয় নিশ্চিত করে দেয়। ম্যাচের বাকি সময়টা একচ্ছত্র দাপট দেখিয়েছে পিএসজি। এই পর্বে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সুযোগ পায়নি ইন্তার। বরং ৭৩ মিনিটে খচিভা কাভারাসেলিয়া ও শেষলগ্নে সেনি মায়ুলুর গোল ইতালিয়ান ক্লাবটির লজ্জা আরও বাড়ায়। পিএসজি’র ফুটবলাররা কয়েকটি সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ