Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিউ এবার বাংলায়? প্রস্তুত কমিশন

আসন্ন বিহার ভোট। তীব্র রাজনৈতিক বিতণ্ডা। এবং তার মধ্যেই ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)। সিএএ কার্যকর হওয়ার পর যে কাজ মোদি সরকার করতে পারেনি, সেই কাজই কি করছে নির্বাচন কমিশন?

ভোটার তালিকার ইন্টেনসিভ রিভিউ এবার বাংলায়? প্রস্তুত কমিশন
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা ও নয়াদিল্লি: আসন্ন বিহার ভোট। তীব্র রাজনৈতিক বিতণ্ডা। এবং তার মধ্যেই ভোটার তালিকার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)। সিএএ কার্যকর হওয়ার পর যে কাজ মোদি সরকার করতে পারেনি, সেই কাজই কি করছে নির্বাচন কমিশন? এই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। কারণ, ইস্যু এখানে নাগরিকত্ব। প্রশ্ন কোটি কোটি আম আদমির ভোটাধিকার নিয়ে। গা করেনি কমিশন। বিহার মিটেছে। এবার তাদের নজরে পশ্চিমবঙ্গ এবং সেইসঙ্গে গোটা দেশ। বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের তরফে সেই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রস্তুতিও সেরে ফেলা হয়েছে বলে খবর। 

Advertisement

কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে ইন্টেনসিভ রিভিশনের জন্য প্রত্যেক রাজ্যকেই নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল কমিশন। বিহার বাদে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল আরও পাঁচটি রাজ্য—অসম, কেরল, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গকে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ২০২৬’এর মধ্যে বিহার সহ এই ছ’টি রাজ্যেই বিধানসভা ভোট হতে চলেছে। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি চলতি বছরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই পাঁচটি রাজ্যে ইন্টেনসিভ রিভিশন হবে? নাকি গোটা দেশে একসঙ্গে? 
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এই বিশেষ সমীক্ষার কাজ শুরু করতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরকে (সিইও) সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সম্প্রতি জেলা স্তরে যাবতীয় প্রস্তুতির কাজ শেষ করে ইতিমধ্যেই কমিশনে রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিইও অফিস। জানানো হয়েছে, প্রস্তুতি পর্ব শেষ। ওই রিপোর্ট পাওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শুরু নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তারিখ ঘোষণা পর্যন্ত এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
এরাজ্যে শেষবার ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি ভোটার তালিকার এসআইআর হয়েছিল। ২৩ বছর পর চলতি বছরে ফের তা শুরু হতে চলেছে। জানা গিয়েছে, বিহারের মতো ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত বা নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গেও একই পদ্ধতি মানা হবে। প্রথমে অনলাইনে আবেদন। তারপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে কমিশনের প্রতিনিধিদের তথ্য যাচাই। ভুয়ো ভোটার কার্ড তৈরির প্রমাণ মিললে এফআইআর দায়ের করা হবে।
সম্প্রতি কালীগঞ্জের উপ নির্বাচনেও এই একই পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করেছে কমিশন। নতুন পদ্ধতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। কারণ এতদিন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য জন্ম তারিখ এবং বাসস্থানের প্রমাণই যথেষ্ট ছিল। এবার নতুন নিয়মে শুধু জন্মের তারিখ নয় কোথায় সংশ্লিষ্ট ভোটারের জন্ম হয়েছে, তার প্রমাণও সংযুক্ত করতে হবে। এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে সেই তথ্য সংগ্রহ করে মিলিয়ে দেখবেন বুথ লেভেল অফিসাররা। নতুন নিয়মের এই অংশটি নিয়েই বিস্তর রাজনৈতিক জলঘোলা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই কাজ শুরুর পর রাজনৈতিক বিরোধের পারদ যে আরও চড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ