নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: খেলাধুলো ছেড়ে দিনভর মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকছে যুব সমাজ। মোবাইলের আগ্রাসনের মুখে শৈশব। মোবাইলের রোষ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে শরীর চর্চার বিকল্প নেই। তাই আরামবাগ দুয়ের পল্লি কল্যাণ সমিতি ফুটবল কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। সেই কোচিংয়ের বালক বালিকাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য এক দিবসীয় ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আরামবাগ শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিবেকানন্দ পার্কের পাশের ফুটবল মাঠে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় হুগলির আটপুর বিবেকানন্দ ক্লাবের সঙ্গে দুয়ের পল্লি কল্যাণ সমিতির ছ’টি টিমের প্রতিযোগিতা হয়। তিনটি গ্রুপের মধ্যে পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সি গ্রুপের খেলা ড্র হয়। সাত থেকে ১০ বছর বয়সি গ্রুপের খেলায় ১ গোলে আটপুর জয়ী হয়। ১০-১৪ বছর বয়সি খেলাটি ড্র হয়।
ক্লাবের সম্পাদক সুবীরকুমার দে বলেন, করোনার সময় আমরা গৃহবন্দি হয়ে পড়ি। সেই সময়ই প্রত্যেকেরই মোবাইল নির্ভরতা বেড়ে যায়। তারফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় শৈশব। তাই ২০২২ সাল থেকে আমরা ফুটবল কোচিং শুরু করি। বর্তমানে অনেকেই এই কোচিংয়ে আসছে। এখনও বালক বালিকাদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সি বালক বালিকারা আধুনিক কোচিংয়ের সুবিধা পাবে। আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় কোচিংটি চলছে।
উদ্যোক্তাদের তরফে মানিক রায়, গৌতম নন্দী বলেন, প্রত্যেক সপ্তাহে বুধ, শনি ও রবিবার ফুটবল কোচিং দেওয়া হয়। আমাদের এখানে পাঁচজন প্রশিক্ষক রয়েছেন। ক্লাবের সদস্য বনমালী দে, রাধাকান্ত পাল, মনোরঞ্জন মেটে বলেন, কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া বালক-বালিকাদের জার্সি, বল ও খেলার অন্যান্য সরঞ্জাম আমরাই দিই। তারসঙ্গে বিভিন্ন ক্লাবে ট্রায়াল দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তারা যাতে ভালোভাবে ফুটবলের প্রশিক্ষণ পায় তা আমাদের লক্ষ্য। ক্লাবের তরফে অরূপ খাঁ, নেপাল চক্রবর্তী বলেন, ফুটবল কোচিং নেওয়ার পর তারা খেলায় কতটা পারদর্শী তা বোঝার জন্য এদিন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এরফলে আমাদের সদস্যদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট দেখা হয়েছে। তারা তাদের ভুল, ত্রুটিও বুঝতে পেরেছে। এখানে দুঃস্থ ছেলে মেয়েদের ফুটবল কোচিং নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।