Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেতাদের বদলে বর্ধমান ভবনের রুম ‘দখল’ আধিকারিকদের

নেতাদের বদলে বর্ধমান ভবনের রুম ‘দখল’ আধিকারিকদের
  • ২৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের ভাঁড়ে মা ভবানী। অস্থায়ী কর্মীদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। সেই জেলা পরিষদের অধীনেই আসানসোল বাজারে জিটি রোডের পাশে রয়েছে বর্ধমান ভবন। সরকারি আইন মেনে এই সম্পত্তি লিজ দিলে বিপুল আয় করতে পারত জেলা পরিষদ। অভিযোগ, তৃণমূল আমলে এই ভবনের নিয়ন্ত্রণ ছিল শাসক দলের নেতাদের হাতে। তিন মাস হল সরকার বদল হয়েছে। নেতাদের জায়গা দখল করেছেন আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে এই ভবনকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করে এক একজন এক একটি রুম নিজেদের ‘দখল’ নিচ্ছেন। দরজায় বসাচ্ছেন ইন্টারলক। রুমের টুকিটাকি কাজও করিয়ে নিচ্ছেন স্বাচ্ছন্দ্য পেতে। কেউ কেউ আবার সুযোগ বুঝে বর্ধমান ভবনের রুম ভাড়াও খাটাচ্ছেন। অথচ, জেলা পরিষদের কোষাগার ফাঁকাই থেকে যাচ্ছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলাপরিষদ) নীতু শুল্কা বলেন, ‘জেলা পরিষদের একাংশ একটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ককে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জেলা পরিষদ রাজস্ব পাবে। আধিকারিকদের ঘর দখলের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ 

Advertisement

জিটি রোডের উপর এই বর্ধমান ভবনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। অবিভক্ত বর্ধমান জেলায় আসানসোলের ডাকবাংলো ছিল এই বর্ধমান ভবন।  একটা সময়ে এই ভবন লিজ দিয়ে রাজস্বও আদায় হয়েছে। কিন্তু, তৃণমূল সরকারে থাকা কালীন ২০১৪ সাল থেকেই ভবনটি হয়ে ওঠে মৌরুসি পাট্টা। ১২টি বড় কক্ষ সহ নাইট গার্ড রুম, কেয়ারটেকার রুম সহ বড় এলাকা নিয়ে থাকা ভবনের তেমনভাবে সংস্কার হয়নি। বহু শাসক নেতা ও তাঁর শাগরেদকে অধিনে চলে গিয়েছিল ভবনটি। আসানসোল বাজারে দক্ষিণ থানার পাশেই এই ভবন থাকায় এখানে রুমের ব্যাপক চাহিদা। জানা গিয়েছে, একটি অসাধু চক্র ৫০০ টাকা করে নিয়ে যথেচ্ছ রুম ভাড়াও দেয়। কিন্তু জেলা  পরিষদের কোষাগারে নাম মাত্র টাকাই জমা পড়ত। জেলা পরিষদের চলতি বোর্ড এই ভবন লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নিলেও কোন অদৃশ্য হাতের অঙ্গুলি হেলনে তা বাস্তবায়িত হয়নি। 
সরকার বদলের পরও একই দৃশ্য। সেখানে গিয়ে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ১২টি রুমের মধ্যে চারটি রুমের দখল নিয়েছেন সরকারি কর্মী আধিকারিকরা। তাঁদের মধ্যে একজন জেলার শীর্ষস্থানীয় বাস্তুকার, একজন সহকারী বাস্তুকার। যিনি রুমের সংস্কার করতেও উদ্যোগী হয়েছেন। একজন যুগ্ম বিডিও র‌্যাঙ্কের আধিকারিক ও একজন পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মী। এছাড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও অতিরিক্ত জেলাশাসকের জন্য দুটি রুম বরাদ্দ থাকে সরকারি ভাবেই। স্থানীয়স্তরের এই ভবনের রুমে আপত্তিকর কাজ হওয়ারও একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তারপরও ভবন নিয়ে কেন উদাসীনতা? প্রশাসনের উদাসীনতাও ভবনের সামনের অংশ এমনকী গেটের একাংশ ফুটপাত ব্যবসায়ীরা দখল করে রেখেছে। আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘গত সরকার সরকারি সম্পত্তিগুলি নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছে। আমাদের সরকার তা করবে না। প্রশাসনকে বলব এমন পদক্ষেপ নেওয়া হোক যাতে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি পায়।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ