নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাস্তার ধারে যেখানে-সেখানে নয়, এবার নির্দিষ্ট জায়গায় খাবার পাবে পথ সারমেয়রা। যাঁরা প্রতিদিন তাদের খাওয়ান, পুরসভার নথিতে তাঁদের পরিচয়ও থাকবে। শুধু খাবারের ব্যবস্থা নয়, নির্বীজকরণ থেকে শুরু করে আগামী দিনে ওদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল ও ক্রিমেটোরিয়াম চালুর পরিকল্পনা করছে হাওড়া পুরসভা। শহরের অবলা প্রাণীদের জন্য এমন সুসংগঠিত উদ্যোগ এই প্রথম। বুধবার পুরসভার একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও পরিদর্শনে এসে সেই কর্মসূচির সূচনা করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ও পুর কমিশনার তেজস্বী রানা সহ পদস্থ আধিকারিকরা।
এদিন হাওড়া পুরসভার টাউন হলের অনুষ্ঠানে পুরমন্ত্রীর উপস্থিতিতে পথ পশু কল্যাণ প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন হয়। শহরের পাঁচজন ডগ ফিডারের হাতে তুলে দেওয়া হয় পরিচয়পত্র ও ফিডিং কিট। নির্দিষ্ট এলাকায় পথ সারমেয়দের খাবার দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য, যেখানে-সেখানে খাবার না ছড়িয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় দায়িত্বশীলভাবে সারমেয়দের খাবার দেওয়া। পাশাপাশি পথ সারমেয়দের নির্বীজকরণের জন্য এদিন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে পুরসভা। শহরের পাঁচটি ওয়ার্ডে মোট ১৪টি ডগ ফিডিং জোনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শৈলকুমার মুখার্জি রোড ও সল্টগোলা লেন, ২৯ নম্বরে পুরসভার প্রধান কার্যালয়, ব্যাক অফিস, শরৎসদন ও রামকৃষ্ণপুর ঘাটের বিপরীতে, ৪২ নম্বরে ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে এইচআইটি বিল্ডিংয়ের বিপরীতে ডি, ই ও এফ ব্লকের সামনে ছ’টি জায়গায়, ৪৪ নম্বরে চৌধুরীপাড়া লেন এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে এইচআইটি ইকো পার্কের গেটের বিপরীতে ওই জোনগুলি তৈরি করা হয়েছে।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘পথকুকুর কিংবা রাস্তার পশুদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বেশ কিছু পরিকল্পনা ছিল। অবশেষে হাওড়ায় তা বাস্তবায়িত হল। এলাকার সারমেয়দের যাঁরা নিয়মিত খাওয়ান, তাঁরা এই উদ্যোগে যুক্ত হতে পারবেন। তাঁদের পরিচয়পত্র ও রেজিস্ট্রেশন করানো হবে। এই কর্মসূচি পরিচালনার জন্য পুরসভায় নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে।’ আগামী দিনে রাস্তার অবলা পশুদের জন্য ইলেকট্রিক ক্রিমেটোরিয়াম, অ্যাম্বুলেন্স ও হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এমনকি, হাওড়ার পাশাপাশি কলকাতা, বালি ও আসানসোল পুরসভা এলাকায় সরকারি জমিতে থাকা গাছে পাখিদের বাসার জন্য মাটির হাঁড়ির মতো ছোটো ঘর ও খাবারের ব্যবস্থাও করা হবে।
এদিন পুরসভার সাফাই বিভাগের তিনজন সেরা সেক্টর পারফরমার ও ৫০ জন সাফাইকর্মীকে সম্মানিত করা হয়। শরৎসদনে গিগ কর্মীদের প্রতীক্ষালয় উদ্বোধন এবং পুরসভার কাছে মিউরাল পেইন্টিং পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। বাণীবিহারী বোস লেনের আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টারও উদ্বোধন হয় এদিন। পাশাপাশি ৭, ১০, ১৪, ১৮, ২০, ২৬, ২৯ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে আটটি আরবান হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার ভার্চুয়ালি চালু করা হয়। নিজস্ব চিত্র



