নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চুঁচুড়ায় স্থানীয় ঐতিহ্যগুলি সংস্কার ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। চুঁচুড়াকে কেন্দ্র করে ট্যুরিজম সার্কিট প্রকল্প কার্যকর করার প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রাজ্যের কাছে জমা পড়েছে। তার আগে স্থানীয় ঐতিহ্যগুলিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই কাজের নীল-নকশা তৈরির কাজ চলছে। ঐতিহ্যপূর্ণ স্থানগুলিকে বাছাই করে স্থানীয় সমস্যা ও সুবিধা পর্যালোচনা করে সেগুলিকে নির্দিষ্ট রূপ দেওয়ার সুংসহত পরিকল্পনা করা হবে। চুঁচুড়ার বন্দেমাতরম ভবন, জোড়াঘাট, ইমামবাড়া, ব্যান্ডেল চার্চ, ডাচদের কবরস্থান সহ নানা ঐতিহ্যকে ঘিরে পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ চলছে।
আরও একটি বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন নজর দিতে চাইছে। তা হল, পর্যটন আবাস। চুঁচুড়ায় কোনো সরকারি পর্যটক আবাস নেই। স্থায়ীভাবে ট্যুরিজম সার্কিট তৈরি করতে হলে সেই প্রকল্পও কার্যকর করা জরুরি। চুঁচুড়া ট্যুরিজম সার্কিট নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা রাজ্য সরকারের কাছে তুলে ধরেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সুবীর নাগ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনিক তৎপরতা আমরা শুরু করেছি। ওই সার্কিট নিয়ে রাজ্যের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ঐতিহ্যগুলিকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় ও পর্যটনবান্ধব করে তুলতে হবে। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে চুঁচুড়ার আঞ্চলিক ইতিহাসের চর্চাকার সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চুঁচুড়ার ট্যুরিজম সার্কিট একটি উল্লেখযোগ্য কাজ। তা বাস্তবায়িত হলে এখানকার ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বুনিয়াদও মজবুত হবে। স্থানীয় ছোটো ছোটো ঐতিহ্যগুলি সংস্কার করে নতুন চেহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত। চুঁচুড়ায় একটি পর্যটক আবাস তৈরি করাও জরুরি।
অতীতে চুঁচুড়াকে পর্যটন মানচিত্রে নিয়ে আসার জন্য সরব হয়েছিলেন চুঁচুড়া পুরসভার তদানীন্তন চেয়ারম্যান অমিত রায়। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের সময়ে এই প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তব রূপ পায়নি। নতুন সরকারের আমলে যদি এই প্রকল্প কার্যকর হয়, তাহলে ভালো হবে।
চুঁচুড়া এক সময়ে ‘ইউরোপীয় উপনিবেশের’ এর অন্যতম অংশ ছিল। পরবর্তীকালে হুগলির জেলাসদর হয়ে উঠলেও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও তার বিপণনে অনেকটা পিছিয়ে। সেই জায়গা থেকেই এবার চুঁচুড়াকে ঘিরে পর্যটন সার্কিটের পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বন্দেমাতরম ভবনকে নবরূপে তুলে ধরার প্রশাসনিক উদ্যোগ
দেখা গিয়েছে।