


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সহ সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত এলাকায় রান্নার জ্বালানির চাহিদা মেটাতে কেরোসিন তেলের বিশেষ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেট্রল পাম্প কেরোসিন বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী ‘পেট্রলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভ সেফটি অর্গানাইজেশন’ এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। পাম্পের মধ্যে কত জায়গা নিয়ে শেড তৈরি করে সেখানে কীভাবে কেরোসিন মজুত রেখে বিক্রি করতে হবে, তার বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। পাম্পে নিরাপদ জায়গায় অস্থায়ী শেড তৈরি করে ড্রাম বা ব্যারেলে ২৫০০ লিটার পর্যন্ত কেরোসিন রেখে বিক্রি করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে গাইডলাইনে। এই পর্বে গোটা দেশের জন্য ৪৮ হাজার ২৪০ কিলোলিটার কেরোসিন বরাদ্দ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া হয়েছে ৪,১৬৪ কিলোলিটার।
কেন্দ্রীয় সরকার যে কেরোসিন বরাদ্দ করে, তা পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু রাজ্যে রেশন দোকানের মাধ্যমে বিক্রি হয়। তেল সংস্থার ডিপো থেকে কেরোসিন ডিস্ট্রিবিউটর-হোলসেলারদের কাছে কেরোসিন পৌঁছায়। সেখান থেকে তা যায় ডিলারদের কাছে। ডিলারদের কাছ থেকে কেরোসিন কেনেন রেশন কার্ডধারীরা। তার বদলে তেল সংস্থার লাইসেন্সপ্রাপ্ত পাম্প থেকে কেরোসিন বিক্রির কথা কেন বলা হল, পরিষ্কার নয়। তবে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের চাপে অনেক রাজ্য কেরোসিনের কোটা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছে। ফলে কেরোসিন দেওয়ার আগের পরিকাঠামো নেই। সেই কথা মাথায় রেখে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সহ ১৬টি রাজ্যে এখনও রেশনের মাধ্যমে কেরোসিন বিক্রি হয়। এই রাজ্যগুলিতে পেট্রল পাম্পে বিশেষ বরাদ্দের কেরোসিন দেওয়া হবে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। তেল সংস্থাগুলি বিশেষ বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি দিলে এটা পরিষ্কার হবে।