সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: এক সময় পর্যটকদের কাছে ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হয়ে উঠেছিল আলিপুরদুয়ার জেলার কুঞ্জনগর ইকো পার্ক। অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বুড়ি তোর্সা নদীর পশ্চিম প্রান্তে পার্কটি ক্রমশ ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই এবার পার্কটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ডিস্ট্রিক্ট প্ল্যানিং অফিসার সার্থক চৌধুরীর নেতৃত্বে ডিটেইলস প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। আপাতত ঠিক হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, ঝুলন্ত সেতু, ফেরিঘাট ও শিশু উদ্যানটিকে আমূল ঢেলে সাজানো হবে। পার্কের ভিতরে তৈরি হবে অ্যাপ্রোচ রোড। বসানো হবে রং-বেরংয়ের পেভার ব্লক। তৈরি করা হবে রঙিন ফেন্সিং-ও।
উল্লেখ্য, ২০০০ সালে বাম জমানায় কুঞ্জনগর ইকো পার্ক তৈরি করা হয়। এক সময় এখানে বার্ড অ্যাভিয়ারি, ঘড়িয়াল ও হরিণ প্রজনন কেন্দ্র ছিল। ছিল চিতাবাঘের এনক্লোজারও। পার্কের পূর্বদিকে দাঁড়ালেই হাতি, বাইসন, ময়ূর ও হরিণের দর্শন মিলত। এমনকী চিতাবাঘও দেখা যেত। কিন্তু ২০১৬ সালে কুঞ্জনগর ইকো পার্কের ‘জু লাইসেন্স’টি ব্যবহার করে শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি। আর তখন থেকেই পার্কটি গরিমা হারাতে থাকে। অতীতে শীতের মরশুমে এখানে পিকনিক পার্টির তিলধারণের জায়গা থাকত না।
গত ৩১ আগস্ট ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা পর্যটক টানতে কুঞ্জনগর ইকো পার্কটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য জেলাশাসক ময়ূরী ভাসুকে প্রস্তাব দেন। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, খুব ভালো লাগছে জেলা প্রশাসন পার্কটিকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছে। আশা করছি, ইকো পার্কের হৃতগৌরব ফের ফিরে আসবে।
রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ বলেন, কুঞ্জনগর ইকো পার্কটিকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে। ফের পর্যটকদের কাছে অন্যতম ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন সেন্টার হয়ে উঠবে বলে আমরা আশা করছি।