নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়া পুরসভা এলাকার সাফাই পরিষেবা উন্নত করতে একাধিক পরিকাঠামো এক ছাদের তলায় নিয়ে আসতে চাইছেন আধিকারিকরা। উত্তরপাড়ায় তৈরি হচ্ছে সাফাই গাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ। নাগরিক ও সাফাই কর্মীদের সুবিধার জন্য পৃথক অফিস তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে আধুনিক যন্ত্র প্রদান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। তৈরি করা হচ্ছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এগুলি একছাদের তলায় হবে। উত্তরপাড়ার বাবুঘাটে একটি জমি ও পুরসভার একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে ওই পরিকল্পনা রূপায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে সাফাইয়ের গাড়িগুলি আরও ভালো পরিষেবা দিতে পারবে।
উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ যাদব বলেন, একটি বহুমুখী সুসংহত প্রকল্প হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য, শহরের সাফাই ব্যবস্থাকে নিরন্তর উন্নত করে যাওয়া। সেই কারণেই একটি পৃথক পরিকাঠামো ও গোটা সাফাই কাজের পরিচালন ব্যবস্থাকে আমরা এক ছাদের তলায় নিয়ে আসতে চাইছি। ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছি। পুরসভার বাস্তুকারদের পরিকল্পনা রূপায়ণে নেমে পড়তে বলা হয়েছে। টাকার কোনও অভাব হবে না। পুরসভার এক কর্তা বলেন, ওই ব্যবস্থায় আক্ষরিক অর্থেই বহুমুখী সুবিধা মিলবে। সাফাই কাজের জন্য গোটা ব্যবস্থাটাই এক জায়গায় থাকবে। গাড়িগুলি বাড়তি কাজে ব্যবহার করা যাবে। সেগুলি রাস্তাঘাটে রাখার জেরে নাগরিকদের সমস্যার পাশাপাশি, গাড়িগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হতো। সেসবও রুখে দেওয়া যাবে। কর্মীরা পৃথক পরিবেশে ভালো কাজের সুযোগ পাবেন। যা নাগরিক পরিষেবার মান বাড়াতে সাহায্য করবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবুঘাটে পুরসভার একটি সাবেক বাড়ি আছে। সেটিকেই সংস্কার করে তিনতলা ভবনের আকার দেওয়া হবে। সেই ভবনেই সাফাইকর্মীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তাঁদের অফিস এবং বিশ্রামাগার থাকবে। পুরকর্তাদের দাবি, নিত্যনতুন আধুনিক যন্ত্র ও গাড়ি পুরসভার সাফাই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই প্রযুক্তিতে কর্মীদের দক্ষ করে তুলতেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। ওই ভবন লাগোয়া এলাকা এবং ভবনের একতলাজুড়ে তৈরি হবে সাফাই কাজের গাড়ির গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ। সেখানে গাড়িগুলির যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি খারাপ হলে সারিয়ে তোলার কাজও করা হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নানা রকমের আধুনিক ও প্রাচীন গাড়ি মিলিয়ে পুরসভাতে প্রায় ১০০টি গাড়ি আছে। সেগুলি যাতে একসঙ্গে একই এলাকায় থাকতে পারে সেই রকম পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বাবুঘাটের ওই এলাকা সীমানা প্রাচীর দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। পুরকর্তাদের দাবি, সব ঠিকঠাক চললে পুজোর আগেই নতুন উন্নত পরিকাঠামো তৈরি হয়ে যাবে। যা পুরসভার সাফাই কাজের গতি ও মানকে উন্নত করবে।