


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বাঁধ তৈরির জন্য মাটি বহনকারী আটটি বোট আসছে সুন্দরবন থেকে। খানাকুলে নদীর বাঁধ নির্মাণে মাটি জুগিয়ে কাজ করা চ্যালেঞ্জ। তাই নদীপথে বোটে করে মাটি নিয়ে যাওয়া হবে বাঁধে। ঠাকুরানিচক থেকে বন্দর পর্যন্ত দ্বারকেশ্বর নদে চলবে বোটগুলি। জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে এমনই তৎপর সেচদপ্তর।
সেচদপ্তরের হুগলি জেলার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিং বলেন, দ্বারকেশ্বরের খুঁটে পাড়ায় বাঁধের কাজ করতে যাতায়াতের সমস্যা রয়েছে। সেকশনে ট্রাক্টরে করে মাটি নিয়ে গিয়ে বাঁধে ফেলা কার্যত অসম্ভব। তাই সুন্দরবন থেকে আটটি মাটি বহনকারী বোট নিয়ে আসা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দু’টি বোট চলে এসেছে। সেগুলি ঠাকুরানিচক থেকে নদীপথে বাঁধের কাছে যাবে। সেখানে যন্ত্রের সাহায্যে মাটি কাটা ও নামানোর কাজ চলবে। এরফলে আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।
সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর বন্যা পরিস্থিতির সময় আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। দ্বারকেশ্বর, মুন্ডেশ্বরী ও রূপনারায়ণে ভাঙনগুলি হয়।
আরামবাগ, পুরশুড়া, খানাকুলের বিভিন্ন জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। সেখানে বাঁধ নির্মাণের কাজও শুরু করে সেচদপ্তর। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই বর্ষার মুখে জল স্ফীতি হয় নদীগুলির। তারফলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়। বাঁধ তৈরির কাজে ঢিলেমি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। প্রশাসনিক মহলেও তা নিয়ে চর্চা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেচদপ্তরের সচিব মনীশ জৈন আরামবাগ মহকুমার নদী বাঁধের কাজ খতিয়ে দেখতে এসে জুনের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু বাঁধের কাজে মাটি পাওয়া নিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে সেচদপ্তর দাবি করে। তারপরই সুন্দরবন থেকে বোট আনার সিদ্ধান্ত হয়।
সেচদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, দ্বারকেশ্বরে জল কমে যাওয়ায় চর থেকেই মাটি কেটে বাঁধে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরজন্য সুন্দরবন থেকে আসা বোটগুলিকে কাজে লাগানো হবে। ওই বোটগুলি ৩০০ থেকে ৪০০ সিএফটি পর্যন্ত মাটি বহন করতে পারে। যন্ত্রের সাহায্যে মাটি কেটে তা বোটে চাপানো হবে। বোটগুলি খানাকুলের খুঁটেপাড়ায় মাটি পৌঁছে দেবে। সেখানে ফের যন্ত্রের সাহায্যে মাটি বাঁধে ফেলা হবে।
সেচদপ্তর জানিয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানের দিকে খুঁটে পাড়ার বাঁধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘাটালের শিলাবতী ও রূপনারায়ণ নদীর জলের চাপে দ্বারকেশ্বরের জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সেখানে বাঁধ তৈরির কাজ করতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বোটের সাহায্যে মাটি ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব চিত্র