সমবায় আইন সংশোধনে উদ্যোগ,  চালু হবে অনলাইন রেজিস্ট্রেশনও, যুবসমাজের অন্তর্ভুক্তি, মানবসম্পদ বিকাশে নজর
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: সমবায় ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তুলতে রাজ্যের সমবায় আইনে একগুচ্ছ সংশোধনের উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৫ সালের জাতীয় সমবায় নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সংশোধন ও পরবর্তী সময়ে রাজ্যের সমবায় নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সমবায় ব্যবস্থায় যুবসমাজের অংশগ্রহণ বাড়ানো, মানবসম্পদ বিকাশ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিচালন ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে এই সংশোধনী আনার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সমবায়ের অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাপনাও চালু করতে চলেছে রাজ্য। এতদিন এই প্রক্রিয়া পুরোটাই কাগজ-কলমে করা হতো। অনলাইন ব্যবস্থাপনা এসে গেলে সমবায় ক্ষেত্রে উৎসাহ বাড়বে বলেও মনে করছে আমলা মহল। স্বচ্ছতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সমবায়গুলির অডিট ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত সংশোধনের মূল ভিত্তি হবে ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তার মধ্যে অন্যতম হল সমবায় আন্দোলনে যুবসমাজকে আরও বেশি করে যুক্ত করা এবং রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত করা। শুধু সদস্য হিসাবে নয়, সমবায় পরিচালনা, উদ্যোগ গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও যুবকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে নয়া নীতি নির্ধারণ হতে চলেছে। সমবায় ব্যাংকগুলির পরিচালন ব্যবস্থা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রেও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নির্দেশিকা ও সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সমবায় ব্যাংকে নিয়োগের যোগ্যতা এবং পরিচালন পর্ষদে কারা থাকতে পারবেন, সেই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে চলেছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে প্রাথমিক সমবায়গুলিকে আরো বেশি করে বহুমুখী প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোলাও অন্যতম উদ্দেশ্য। এর ফলে সমবায়গুলির আয়ের উৎস বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করেন রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেন্দ্রের প্রতিটি প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। তাই কেন্দ্রের নীতির সঙ্গে সমতা রেখে রাজ্যে সমবায় নীতি নিয়ে আসা হবে। এর জন্য আইনে সংশোধন আনতে হবে। তারই খসড়া তৈরির কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব এই কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।’’ 
প্রসঙ্গত, সমবায় ক্ষেত্রে কেন্দ্রের ১৭টি প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ করা হয়েছে। গত ৩০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সমবায় সচিব আশিস কুমার ভুটানির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নবান্নে বৈঠকও হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং সমবায় দপ্তরের পদস্থ কর্তাদের। সূত্রের খবর, আগামী দু’মাসের মধ্যে ফের এই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক হতে পারে।