Bartaman Logo
১৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপে জমি কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস, আরও চাপে বিমানকৃষ্ণ সাহা

আরও চাপে পড়লেন নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা।

নবদ্বীপে জমি কেলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস, আরও চাপে বিমানকৃষ্ণ সাহা
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

‎‎অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: আরও চাপে পড়লেন নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। গ্রেপ্তার হতেই একের পর এক কীর্তি ফাঁস হচ্ছে। সোমবার চৈতন্যভূমে জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করল বিজেপি। সেই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি তোলা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের তরফে। 

Advertisement

তৃণমূল জমানায় বৈষ্ণব তীর্থে দাপিয়ে বেড়িয়েছে জমি হাঙররা। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারবার চলেছে দেদার। একই জমি হাতবদল হয়েছে একাধিকবার। স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়েছে আকাশছোঁয়া। নবদ্বীপে জমি কেনা ছিল সাধারণের কাছে দুঃসাধ্য। অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাথাতেই এতদিন রাজ করেছেন বিমানকৃষ্ণ। শুধু তাই নয়, তাঁর নিজের নামেও শতাধিক জমি কেনাবেচার তথ্য এখন সামনে আসছে। সামনে আনছে বিজেপি। যাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় বৈষ্ণবতীর্থ। এদিন পুরসভার এই জমি কেলেঙ্কারি নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করে তদন্তের দাবি তুলেছে বিজেপি। 
একেই জমি হাঙরদের সৌজন্যে দর বৃদ্ধি। তারউপর কেউ জীবনের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে নবদ্বীপে জমি কিনলেও হাজির হয়ে যেত ‘বিমান অ্যান্ড কোম্পানি’। অভিযোগ, হুঁশিয়ারি দিয়ে সিন্ডিকেটের লোকজন জানিয়ে দিত, তাদের রেটচার্ট মেনে জমি কিনতে হবে। কেউ বিক্রি করতে চাইলেও একই রেটচার্ট। 
অর্থাৎ, নবদ্বীপে কোন জমি কখন বিক্রি হবে, তার দাম কত হবে—সবটাই নির্ধারিত হতো বিমানকৃষ্ণের অঙ্গুলিহেলনে। তার চেয়েও গুরুতর অভিযোগ যেটা তা হল, কারোও বাড়ির সদস্য মারা গেলে কিংবা কোনো পরিবারের সম্পত্তির ওয়ারিশ না থাকলে সেই সম্পত্তি জোর করে লিখিয়ে নেওয়া কার্যত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মন্দিরনগরীর মতো পবিত্র স্থানে। কেউ জমি দিতে না চাইলে তাঁদের হুমকির মুখে পড়তে হতো। ভালুকা ও মহিশূরা এলাকার বিমান ঘনিষ্ঠ তৃণমূলের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নামও এক্ষেত্রে উঠে আসছে।  
নবদ্বীপের বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘রাধাবাজার, পোড়ামাতলা অর্থাৎ নবদ্বীপ শহর ও শহরতলির এলাকায় প্রতি কাঠা জামির দাম ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা। আজ থেকে দশ বছর আগেও সেই জমির দাম ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ছিল। আবার শহর থেকে একটু দূরে গেলে জমির দাম একটু কমে যায়। সেগুলি কম দামে কিনে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। তাই লাফিয়ে বেড়েছে নবদ্বীপে জমির দাম।’ বিজেপি নেতা সমীর রায় বলেন, ‘বহু তল বাড়ি তৈরির অনুমতিপত্র, সেখানে লিফ্টের ব্যবস্থা করা, পুকুর ভরাট  সহ নানা অনিয়মের কাজে রেটচার্ট বাঁধা ছিল। এখনও পর্যন্ত ওঁর নামে ১৮৯টি জমির দলিলের হদিশ মিলেছে।’
‎বিজেপি ইতিমধ্যেই ২০১৩ সাল থেকে বিমানকৃষ্ণের জমি কেনা-বেচার অপকর্মের খতিয়ান উদ্ধার করেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, তিনি একাধিক জমি যেমন কিনেছেন, তেমনিই আবার বহু জমি বিক্রি করেছেন। সঙ্গতকারণেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে এত জমি তাঁর কাছে এল কোথা থেকে? বিজেপির অভিযোগ, সিন্ডিকেট সেই জমি স্বল্প দামে কিনে চড়া দামে বিক্রি করছে। এছাড়াও গিফট-ডিড বা দানপত্রে প্রাপ্ত জমিও রয়েছে।
অন্যদিকে, নবদ্বীপ পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দদিঘি রপাড়ের জলের ট্যাঙ্কের কাছে অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ের চাবি বিজেপির হাতে তুলে দিলেন ওয়ার্ড সভাপতি প্রবীর কুমার দাস।  চাবি গ্রহণ করেন বিজেপির নবদ্বীপ দক্ষিণ মণ্ডলের সম্পাদক তথা ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ইনচার্জ অয়ন বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য, ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা চুরির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উন্নয়নের স্বার্থেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব স্বেচ্ছায় দলীয় কার্যালয়টি বিজেপির হাতে তুলে দিয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ