Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোটার, আধার, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড ফেলে পালাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা

সকাল গড়াতেই হাকিমপুর সীমান্ত চেকপোস্টের দিকে ভিড় বাড়ছিল। মাথায় বস্তা, হাতে ট্রলি ব্যাগ, কারও কোলে ছোট শিশু। কারও পাশে বৃদ্ধ বাবা-মা।

ভোটার, আধার, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড ফেলে পালাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা
  • ২৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, হাকিমপুর সীমান্ত: সকাল গড়াতেই হাকিমপুর সীমান্ত চেকপোস্টের দিকে ভিড় বাড়ছিল। মাথায় বস্তা, হাতে ট্রলি ব্যাগ, কারও কোলে ছোট শিশু। কারও পাশে বৃদ্ধ বাবা-মা। সীমান্তের দিকে হাঁটতে থাকা মুখগুলোর মধ্যে একটা অদ্ভুত নীরবতা। কেউ উচ্চস্বরে কথা বলছেন না। মাঝেমধ্যে শুধু শোনা যাচ্ছে দীর্ঘশ্বাস, আক্ষেপ। বাংলাদেশ সীমান্তের স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে গত কয়েক দিনে ধরা পড়ছে এক অন্য ছবি। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করা ‘অনুপ্রবেশকারী’রা পরিবার-পরিজন নিয়ে ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পরেই প্রশাসনিক কড়াকড়ির জেরেই উল্টোস্রোত। সরকারের ‘ঘুষপেটিয়া’দের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের জেরেই চিত্রটা ক্রমশ বদলাচ্ছে। সীমান্তে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের কথায়, মোটা টাকার বিনিময়ে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ নানা নথি তৈরি হয়েছিল। তৃণমূল নেতাদের প্রভাবেই সেই কাজ হয়েছিল। বছরের পর বছর সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও পেয়েছেন। কিন্তু এখন চারপাশের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত। 

Advertisement

খুলনার বাসিন্দা মাফুজা বিবি এতদিন থাকতেন বিরাটিতে। ছ’জনের পরিবার নিয়ে বহু বছর ধরে সেখানেই সংসার পেতেছিলেন। সীমান্তে দাঁড়িয়ে তিনি বলছিলেন, সব কিছু তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, সব ছিল। সরকারি সুবিধাও পেতাম। লক্ষীর ভাণ্ডার থেকে স্বাস্থ্যসাথী— সবই পেয়েছি। তৃণমূল নেতাদের টাকা দিয়ে ‘ভারতীয়’ হয়েছিলাম। এখন সব ফেলে রেখে যেতে হচ্ছে। এদিকে দমদমে রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করতেন লালমিয়াঁ বিশ্বাস। সকালে সীমান্তের দিকে হাঁটার সময় তাঁর কাঁধে ছিল একটা পুরনো ব্যাগ। ভিতরে কয়েক জোড়া জামাকাপড় আর কিছু নথি। লালমিয়াঁর কথায়, আগে এত সমস্যা ছিল না। কাজ করতাম, খেতাম, সংসার চলত। এখন চারদিকে খুব কড়াকড়ি। কোথাও গেলেই কাগজ দেখতে চাইছে। ভয় লাগছে। তাই চলে যাচ্ছি। মধ্যমগ্রামে থাকতেন যশোরের বাসিন্দা মহিম আলম। বছরখানেক আগে এ দেশে এসেছিলেন বলে দাবি তাঁর। বললেন, বাংলাদেশের তুলনায় এখানে রোজগার বেশি। তাই চোরাপথে চলে এসেছিলাম। পরে সব কাগজপত্রও তৈরি হয়ে যায়। সরকারি সুবিধাও পেয়েছি। মনে হয়েছিল আর কোনও সমস্যা হবে না। এসআইআরের সময় চলে গেলেন না কেন? জবাব এল, ভাবতাম, তৃণমূল থাকলে কোনও ভয় নেই। ভেবেছিলাম, ক্ষমতায় থাকবে মমতা দিদি। তা তো হল না, তাই চলে যাচ্ছি। 
বারাসতের নিবেদিতা পল্লিতে থাকতেন খুলনার রাকিব মিস্ত্রি। বারাসত পুরসভার সাফাই বিভাগের অস্থায়ী কাজে যুক্ত ছিলেন। বুধবার সকালে সীমান্তের দিকে হাঁটতে হাঁটতে তিনি বলেন, অনেক বছর কাটিয়ে দিলাম এখানে। চেনা হয়ে গিয়েছিল সব। এখন আবার নতুন করে সব শুরু করতে হবে। আমার দেশের (বাংলাদেশ) হালও তো জানেন, না খেয়ে মরতে হবে  বোধহয়! -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ