জুরিখ: অবশেষে নতি স্বীকার জিয়ান্নি ইনফানতিনোর। বিশ্বকাপ ‘বিক্রি’র পরিকল্পনা যে ভুল ছিল তা স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট। তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার সভাপতি পদে তিনিই থাকছেন। মরক্কোয় অনুষ্ঠিত সভায় ফিফার শীর্ষকর্তাদের সমর্থন পেয়েছেন ইনফানতিনো।
বিশ্বকাপ সহ ফিফার মূল টুর্নামেন্টগুলির মালিকানা বা অংশীদারিত্ব বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। তারজন্য ‘ফিফা ইভেন্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট’ নামে একটি সংস্থা খোলার কথা ঘোষণা করে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। ঠিক হয়েছিল, নতুন তৈরি ওই কোম্পানির ২১ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হবে এক বেসরকারি সংস্থাকে। আর এই শেয়ার কেনাবেচার দায়িত্বে থাকবে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাইয়ের ভাই জোশুয়া কুশনারের সংস্থা। প্রস্তাবে সায় দিতে দিতে ২১১টি সদস্যকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ইনফানতিনো। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মত জানানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু, খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিশ্ব ফুটবল। উয়েফার তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়, ইউরোপের ৫৫ দেশ আগামী বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। এএফসি, কনকাকাফও বিরোধিতা করলে রীতিমতো বিপাকে পড়েন ফিফার সভাপতি। এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা স্থগিত করেন তিনি। কিন্তু তাতেও বরফ গলেনি। এরপর উয়েফা সহ অনেকেই ইনফানতিনোর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে। ফিফা প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তাঁকে সরানোর সওয়ালও উঠে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, ফিফা সদস্যদের নিয়ে জরুরি সভা ডাকতে বাধ্য হন তিনি। সেখানে ক্ষমা চেয়ে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফানতিনো। তবে তাঁর প্রতি ক্ষোভ পুরোপুরি কমেনি। জানা গিয়েছে, ফিফার সভাপতি ও সহ-সভাপতির সই করা চিঠি ২১১ সদস্য দেশকেও পাঠানো হয়েছে। নিজেদের ভুলের জন্য আন্তরিক ক্ষমা চেয়েছেন তাঁরা। এবং ভবিষ্যতে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না— তারও অঙ্গীকার করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট।