Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির রাজ্য কমিটিতে শিল্পাঞ্চল ব্রাত্য! চর্চা শুরু, ঠাঁই পাননি লক্ষ্মণ, ক্ষমতা হ্রাস অগ্নিমিত্রার

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময়েই আসানসোল লোকসভা আসন জয়লাভ করেছিল বিজেপি।

বিজেপির রাজ্য কমিটিতে শিল্পাঞ্চল ব্রাত্য! চর্চা শুরু, ঠাঁই পাননি লক্ষ্মণ, ক্ষমতা হ্রাস অগ্নিমিত্রার
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বঙ্গ বিজেপির উত্থানভূমি আসানসোল ও  দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময়েই আসানসোল লোকসভা আসন জয়লাভ করেছিল বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে আসানসোলের পাশাপাশি বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা আসনেও গেরুয়া বাহিনীর বাংলায় ভবিষ্যৎ অগ্রগতির রাস্তা বাতলে দেয় দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল। স্বাভাবিক কারণেই রাজ্য বিজেপিতে শিল্পাঞ্চলের নেতাদের বাড়তি কদর ছিল। সদ্য প্রকাশিত বিজেপির রাজ্য কমিটিতে সেই কদর ভ্যানিস। এতদিন রা‌জ্য সম্পাদকের পদ আলো করে ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে নতুন কমিটিতে তিনি ঠাঁ‌ই পাননি। একইভাবে বিজেপির মহিলা মুখ হয়ে উঠেছিলেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে করা হয়েছে সহ সভাপতি। যা নিয়ে শিল্পাঞ্চলজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Advertisement


সংঘ ঘনিষ্ঠ শমিক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর বুধবার প্রকাশিত হয় রাজ্য কমিটির তালিকা। সেখানেই ১১ জন রাজ্য সম্পাদকের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাতেই জানা যায়, লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের নাম বাদ পড়েছে। রাজ্য কমিটির কোনও পদেই তাঁকে রাখা হয়নি। দীর্ঘদিনের সংগঠক লক্ষ্ণণ বিজেপির রাঢ়বঙ্গ জোনের আহ্বায়কও। তাঁর এভাবে বাদ পড়া নিয়ে নানা জল্পনা উঠে আসছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। ২০১৯ সালের জেতা আসনে পুনরায় দিলীপবাবুকে জেতাতে দল লক্ষ্মণের উপরই বাড়তি আস্থা রেখেছিল। নিজের বিধানসভা এলাকায় দিলীপবাবুকে লক্ষ্মণ  লিড দিলেও আসনটি হাতছাড়া হয়। তারপর থেকেই লক্ষ্ণণ ও দিলীপ ঘোষকে দুর্গাপুরে এক মঞ্চে দেখা যায়নি। এছাড়া দুর্গাপুরের বিজেপি অন্দরেই লক্ষ্মণের বিরুদ্ধে সুর জোরালো হচ্ছে। দলের একটা অংশ আকারে ইঙ্গিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে আক্রমণ করছে। সেই প্রেক্ষিতে লক্ষ্মণের কমিটি থেকে বাদ পড়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এনিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিক বার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি। হোয়াটস অ্যাপ মেসেজের উত্তরও দেননি। 


অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদিকার পদ সাংগঠনিক দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুকান্ত মজুমদার রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন এই পদ পেয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। তার আগে তিনি ছিলেন রাজ্য মহিলা মোর্চার সভাপতি। ডাকাবুকো এই নেত্রীকে রাতারাতি হারাতে হয়েছে সাধারণ সম্পাদিকার পদ। বর্তমানে ১২ জনের সহ সভাপতির তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন তিনি। কেন এই অবনমন? তা নিয়েও জোর চর্চা চলছে শিল্পাঞ্চলে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর সাফল্যও প্রশ্নের মুখে। ২০২২ সালে আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে ও ২০২৪ সালের মেদিনীপুর লোকসভা আসনে তিনি পরাজিত হন। এমনকি, ২০২৪ সালে আসানসোল লোকসভা আসনেও বিজেপি জিততে পারেনি। এদিকে, রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমিক ভট্টাচার্যের নাম ঘোষণা হতেই দলে কোণঠাসা আদি বিজেপি নেতারা আশায় বুক বেঁধেছেন। দিলীপও সাংগঠনিক কাজে গুরুত্ব পাচ্ছেন। যা দেখে শুনে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, দলে জার্সি বদলু নেতাদের রাশ নিয়ন্ত্রণ করতেই নিজের মতো করেই ঘুঁটি সাজাচ্ছেন নতুন সভাপতি। 
তবে, শিল্পাঞ্চলকে বিজেপির ব্রাত্য করার পিছনে কোনও বিশেষত্ব দেখছে না তৃণমূল। দলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাসু বলেন, ‘বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই শিল্পাঞ্চলের নেতারা আজ গুরুত্বহীন। ২০২৬ সালের পর তাঁরা আর বিধায়কও থাকবেন না।’ 
অগ্নিমিত্রা পল বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সরকার গঠন আমাদের লক্ষ্য। রাজ্য কমিটির সব পদই গুরুত্বপূর্ণ। কাজ করাই আসল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ