Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় শিল্প-বর্জ্যে ভরছে ভ্যাট, ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম সংকট

ভ্যাট থেকে বড় বড় বস্তা গড়িয়ে চলে আসছে রাস্তার মাঝখানে। সেই বস্তা ছিঁড়ে ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে থার্মোকল কিংবা ছাঁটকাপড়। ছোটোখাটো কল-কারখানা থেকেও বর্জ্য এনে নিয়মিত ফেলা হচ্ছে ভ্যাটগুলিতে।

হাওড়ায় শিল্প-বর্জ্যে ভরছে ভ্যাট, ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম সংকট
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভ্যাট থেকে বড় বড় বস্তা গড়িয়ে চলে আসছে রাস্তার মাঝখানে। সেই বস্তা ছিঁড়ে ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে থার্মোকল কিংবা ছাঁটকাপড়। ছোটোখাটো কল-কারখানা থেকেও বর্জ্য এনে নিয়মিত ফেলা হচ্ছে ভ্যাটগুলিতে। এমনই অবস্থা পঞ্চায়েত সংলগ্ন হাওড়া পুরসভার একাধিক ভ্যাটের। ওইসব শিল্প বর্জ্য প্রসেসিংয়ের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না ধাপা ও বৈদ্যবাটিতে। ফলে কয়েকটি ওয়ার্ডের আবর্জনা সাফাই নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে পুরসভা।

Advertisement

হাওড়া-আমতা রোডের উপর শেখপাড়া এলাকার ভ্যাটটি ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের একমাত্র আবর্জনা ফেলার জায়গা। সংলগ্ন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবর্জনাও ফেলা হয় রাজ্য সড়কের পাশে থাকা এই ভ্যাটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত মার্চ মাসে বেলগাছিয়া ভাগাড় বন্ধ হওয়ার পর সংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকা থেকেও বিভিন্ন কল-কারখানার আবর্জনা এনে দেদার ফেলা হচ্ছে ভ্যাটে। রাতের অন্ধকারে বাঁকড়া-১, বাঁকড়া-২, সালেম বস্তি সহ সংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকা থেকে লরি বোঝাই করে বড়ো বড়ো বস্তা এনে ফেলা হচ্ছে এই ভ্যাটে। বস্তার ভিতর ঠাসা রয়েছে কেজি কেজি ছাঁটকাপড়, কাগজের বাক্স, থার্মোকল, ফোম। একই অবস্থা আন্দুল রোডের দানেশ শেখ লেনের ভ্যাটটিরও। সকাল হতেই ভ্যাট থেকে ওই সমস্ত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তার সর্বত্র। বন্ধ হয়ে গিয়েছে নিকাশি নালার প্রবাহ। রাস্তায় আবর্জনা ছড়িয়ে থাকার ফলে শুধু দুর্ঘটনার আশঙ্কাই নয়, বাড়ছে অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনাও। সম্প্রতি বাঁশতলা এলাকার একটি ভ্যাটে ফেলা কারখানার আবর্জনায় আগুন লেগে যায়। নজরদারির অভাবে যেভাবে পঞ্চায়েত সংলগ্ন ভ্যাটগুলিতে শিল্প বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে, তা নিয়ে বিপাকে পড়েছে হাওড়া পুরসভা।
পুরসভার বর্তমান মুখ্য প্রশাসক তথা পুর কমিশনার বন্দনা পোখরিয়াল বলেন, ‘এই ধরনের শিল্প বর্জ্যকে আলাদাভাবে প্রসেসিং করতে হয়। অথচ ছোটো ছোটো ইন্ডাস্ট্রিগুলি পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ডের নিয়ম মানছে না। বেশ কয়েকটি কারখানাকে ইতিমধ্যেই বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ 
বেলগাছিয়া ভাগাড় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর হাওড়া শহরের যাবতীয় আবর্জনা প্রসেসিংয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ধাপা ও বৈদ্যবাটির ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। প্রতিদিন শহরের প্রায় ১৯২টি ভ্যাট থেকে আবর্জনা সংগ্রহের কাজ চলে। পুরসভার দাবি, আগে প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ মেট্রিক টন আবর্জনা পাঠানো হতো। পুজোর পর থেকে ৮০০ মেট্রিক টন করে আবর্জনা জমছে। তার একটি বড় অংশ এই ধরনের শিল্প বর্জ্য। সেগুলি প্রসেসিংয়ের জন্য নিয়ে যেতে চাইছে না বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাগুলি। ফলে জমা হওয়া বর্জ্য কী করা হবে, তা নিয়ে কার্যত সংকটে পড়েছে পুরসভা।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ