Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাঁ চকচকে ভবন তৈরি হলেও চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে চালু হয়নি ইনডোর পরিষেবা রামনগরের চন্দনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে

রামনগর-১ ব্লকের চন্দনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর চিকিৎসা পরিষেবা দিতে তৈরি হয়েছে ঝাঁ-চকচকে ভবন। কিন্তু, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে ইনডোর পরিষেবা চালু হচ্ছে না।

ঝাঁ চকচকে ভবন তৈরি হলেও চিকিৎসক ও নার্সের অভাবে চালু হয়নি ইনডোর পরিষেবা রামনগরের চন্দনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: রামনগর-১ ব্লকের চন্দনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর চিকিৎসা পরিষেবা দিতে তৈরি হয়েছে ঝাঁ-চকচকে ভবন। কিন্তু, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে ইনডোর পরিষেবা চালু হচ্ছে না। অথচ বেশ কয়েক বছর আগে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০ শয্যার ইনডোর পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেইমতোই ভবনও তৈরি হয়েছে। কিন্তু, আজও ইনডোর পরিষেবা চালু হয়নি। বিশালাকার ভবন তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে। এখন এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে ইনডোর পরিষেবা চালু করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দেওয়া জমির উপর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। চন্দনপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর সংশ্লিষ্ট বাধিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সব’কটি গ্রামের বাসিন্দারা নির্ভরশীল। প্রতিদিন আউটডোরে ভালোই রোগীর চাপ থাকে। অন্তত ৭০-৮০ জন মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা করাতে আসেন। একটা সময় এখানে দু’জন চিকিৎসক ছিলেন। তবে বর্তমানে একজন চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসক দেবপ্রতিম ধীবর একা হাতে রোগীর চাপ সামলাচ্ছেন। এখানে দু’জন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী রয়েছেন। আর একজন চুক্তিভিত্তিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন।  
এলাকাবাসীর দাবি মেনে স্বাস্থ্যদপ্তর ইনডোর পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্যমিশন প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ভবন তৈরি করা হয়। কিন্তু, ভবন তৈরি হলেও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে ইনডোর পরিষেবা চালু করা যায়নি। তাই এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লে সেই দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল কিংবা বড়রাঙ্কুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে যেতে হয়। ওই দুই হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। গুরুতর কিছু হলে ৪০ কিলোমিটার দূরে কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল কিংবা ২৫ কিলোমিটার দূরে এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যেতে হয়। 
এখানে চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার জন্য কোয়ার্টারও  তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, তাঁরা কেউ না থাকায় সেগুলি ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। বিশাল এলাকাজুড়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে উঠলেও চারদিকে কোনও পাঁচিল নেই। ফলে যখন-তখন স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে গোরু-ছাগল ঢুকে পড়ছে। চারদিকে আগাছায় ভরে গিয়েছে। এমনকী রাতে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপও চলে বলে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরের মাঝখান দিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী রাস্তা। সেই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে নানা যানবাহন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জায়গায় দোকানপাটও বসে গিয়েছে। যত্রতত্র নোংরা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। 
এলাকার বাসিন্দা, অরূপরতন রানা বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ঘিরে আমাদের অনেক আশা ছিল। তা পূরণ হয়নি। ইনডোর পরিষেবা চালু থাকলে প্রসূতিদের খুবই সুবিধা হত। আমরা  দাবি করছি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করে অবিলম্বে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। 
এবিষয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অমিতকুমার ঘোষ বলেন, একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইনডোর পরিষেবা চালু করতে গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী থাকা দরকার। এখানে তা নেই। তাই আমরা সমস্ত বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনে লিখিত আকারে জানিয়েছি। আশা করছি, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। -নিজস্ব চিত্র 

সম্পর্কিত সংবাদ