Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬

নবম শ্রেণির সিলেবাসে ইন্দিরার ‘জরুরি অবস্থা’! সরব বিরোধীরা, এনসিইআরটি’র সিদ্ধান্তকে সমর্থন ধর্মেন্দ্র প্রধানের

নবম শ্রেণির সিলেবাসে জরুরি অবস্থার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান এনসিইআরটির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

নবম শ্রেণির সিলেবাসে ইন্দিরার ‘জরুরি অবস্থা’! সরব বিরোধীরা, এনসিইআরটি’র সিদ্ধান্তকে সমর্থন ধর্মেন্দ্র প্রধানের
  • ২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ক্লাস নাইনে এনসিইআরটির পাঠ্যক্রমে স্থান পাচ্ছে দেশের জরুরি অবস্থা। তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এর মধ্যে দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনীতিকরণ করতে চাইছে মোদি সরকার। স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করার উদ্দেশ্যেই এহেন পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ক্লাস নাইনের সোশ্যাল সায়েন্সের পাঠ্যবই ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি-ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ অধ্যায়ে দেশের জরুরি অবস্থা সম্পর্কিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর সেখানে প্রায় প্রতি লাইনে কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দেশের গণতন্ত্রের অন্যতম বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল এই ইমার্জেন্সি। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্বের মতো একাধিক ইস্যুতে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে তৈরি হয়েছিল প্রবল জনরোষ। তা সামাল দিতেই জারি হয় জরুরি অবস্থা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, উল্লেখ করা হয়েছে জয়প্রকাশ নারায়ণের (জেপি) আন্দোলনের প্রসঙ্গও। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর পরাজয় প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘দেশের গণতন্ত্র কতটা শক্তিশালী এবং প্রয়োজনীয়, পরাজয়ই তার প্রমাণ।’
এসংক্রান্ত বিষয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠতেই মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘এনসিইআরটি সঠিক কাজ করেছে। জরুরি অবস্থা দেশব্যাপী যে কালো অধ্যায়ের সূচনা করেছিল, সেই সম্পর্কে স্কুল পড়ুয়াদের অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে। কারণ জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি যাতে দেশে আর তৈরি না হয়, সেই ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। এনসিইআরটি এই বিষয়কেই সামনে নিয়ে এসেছে।’ পালটা মোদি সরকারের সমালোচনা করে শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘আর যাই হোক, মিসেস গান্ধী তো অন্য দল ভাঙাতে উদ্যোগ নেননি। সংবিধানকে হত্যার চেষ্টাও করেননি। শর্তসাপেক্ষে জরুরি অবস্থা জারির উল্লেখ দেশের সংবিধানেই আছে।’ এনসিপি সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের অভিযোগ, ‘জরুরি অবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে আদতে পঠন-পাঠনেও রাজনীতির আমদানি করতে চাইছে মোদি সরকার। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ সম্প্রতি দেশে জরুরি অবস্থা জারির ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তাই সরাসরি স্কুলের পাঠ্যক্রমে ইমার্জেন্সি পর্বের উল্লেখকে রীতিমতো ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ