নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের প্রথম ‘প্রকৃতিবান্ধব শ্মশান’ বা ‘গ্রিন ইলেকট্রিক ক্রিমেটোরিয়াম’ গড়ে উঠছে এ রাজ্যে। জাতীয় গঙ্গা মিশন প্রকল্পের অধীনে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরে হচ্ছে পাইলট প্রজেক্ট। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের সর্বত্র একই মডেলে ‘প্রকৃতিবান্ধব শ্মশান’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
কী এই গ্রিন ইলেকট্রিক ক্রিমেটোরিয়াম? সাধারণ ইলেকট্রিক চুল্লিতে একটি শব দাহ করতে যে পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন পড়ে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্রিমেটোরিয়ামে তার চেয়ে অন্তত ৪০ ইউনিট বিদ্যুৎ কম খরচ হবে। বিদ্যুতের সাশ্রয় প্রকৃতির স্বার্থে ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ খরচ কমলে সরাসরি দূষণও কম হয়। কারণ বিদ্যুতের চাহিদা কমলে তা উৎপাদনের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানি এবং দূষণকারী অন্যান্য পদার্থ পোড়ানোর পরিমাণও কমে। সেই কারণেই দেশজুড়ে এই গ্রিন ইলেকট্রিক ক্রিমিটোরিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বারাকপুর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে গঙ্গোত্রীপাড়ায় রানি রাসমণি ঘাটের কাছে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম এই ‘প্রকৃতিবান্ধব শ্মশান’। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অধীন ‘স্টেট প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ’-এর তত্ত্বাবধানে ‘নমামি গঙ্গে’র এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে রাজ্যে। প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে গড়ে তোলা হচ্ছে এটি। সূত্রের খবর, এই শ্মশান তৈরির কাজ এখন শেষের পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই তা চালু হয়ে যাবে। যে সংস্থা এই প্রকল্পের বরাত পেয়েছে, তারাই শুরুর প্রথম ছ’মাস এটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে। সম্পূর্ণ শ্মশান চত্বরের সৌন্দর্যায়নও হচ্ছে নতুন করে। রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, আগে কাঠের চুল্লিতে ব্যাপক দূষণ ছড়াত। ইলেকট্রিক চুল্লিতে তা অনেক কমে গিয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আরও একধাপ এগতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’