Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুয়ো নথিপত্র দিয়ে ভারতীয় ভোটার কার্ড! সামশেরগঞ্জে ধৃত বাংলাদেশির ঠাঁই হোল্ডিং সেন্টারে

সামশেরগঞ্জে জাল নথি দিয়ে ভারতীয় ভোটার কার্ড বানানো বাংলাদেশি যুবক সাহিন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ? বিস্তারিত পড়ুন।

ভুয়ো নথিপত্র দিয়ে ভারতীয় ভোটার কার্ড! সামশেরগঞ্জে ধৃত বাংলাদেশির ঠাঁই হোল্ডিং সেন্টারে
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: আন্তর্জাতিক সীমান্ত টপকে এরাজ্যে প্রবেশ করাই শুধু নয়, জাল নথির সাহায্যে রমরমিয়ে বানিয়ে ফেলেছিল ভারতীয় ভোটার কার্ডও! তারপর পরিচয় লুকিয়ে এদেশেই ডেরা বেঁধেছিল সে। দেখতে দেখতে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ পাঁচ বছর। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার তল্লাশি চালিয়ে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতের নাম সাহিন শেখ। সামশেরগঞ্জের জালাদিপুরে একটি সিমেন্টের গোডাউন এলাকায় সে আস্তানা গেড়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃত যুবকের আসল বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার হঠাৎপাড়া এলাকায়। ধৃতকে মঙ্গলবারে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠায় পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে কোনওভাবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এড়িয়ে ভারতে প্রবেশ করে সাহিন। তারপর থেকেই সে সামশেরগঞ্জের জালাদিপুর এলাকায় থাকতে শুরু করে। স্থানীয় কিছু অসাধু চক্রের সহায়তায় ভুয়ো নথিপত্র জোগাড় করে সে ভারতীয় ভোটার কার্ডও তৈরি করে ফেলেছিল বলে অভিযোগ। আর সেই জাল পরিচয়পত্রকে হাতিয়ার করেই এতদিন দিব্যি ভারতের নাগরিক সেজে বসবাস করছিল ওই যুবক। সোমবার গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে, জালাদিপুরের সিমেন্ট গোডাউন এলাকায় এক বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয় লুকিয়ে বসবাস করছে। সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ সেখানে আচমকা হানা দেয়। এলাকায় গিয়ে ওই যুবকের নথিপত্র পরীক্ষা করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তদন্তকারীদের। দেখা যায়, ভারতীয় ভোটার কার্ডটি সম্পূর্ণ জাল নথির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এরপরই পুলিশ সাহিন শেখকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে ইতিমধ্যেই লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তাকে সীমান্ত দিয়ে পুনরায় নিজের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বিএসএফ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং ‘পুশ ব্যাক’-এর আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তবে, এই ঘটনা প্রথম নয়। দিন কয়েক আগেই পার্শ্ববর্তী সুতি থানা এলাকা থেকেও ঠিক একইভাবে আরও এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাকেও লালগোলা হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। পরপর এই ধরনের ঘটনায় সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা এবং ভুয়ো নথিপত্র তৈরির কারবার নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। এই চক্রের পিছনে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।  লালগোলার হোল্ডিং সেন্টার। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ