


নয়াদিল্লি: ‘সেপাহ নেভি। সেপাহ নেভি। মোটর ট্যাঙ্কার সানমার হেরল্ড থেকে বলছি। আপনারা তো আমাদের জাহাজকে হরমুজ পেরনোর অনুমতি দিয়েছিলেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আমাদের নাম রয়েছে। এখন আপনারাই গুলি চালাচ্ছেন। আমাকে পিছিয়ে যাওয়ার সময় দিন’। শনিবার দু’টি ভারতীয় জাহাজের উপর গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে নয়াদিল্লি ও তেহরানের মধ্যে চাপানউতোর জারি। এরইমাঝে রবিবার সামনে এল এই চাঞ্চল্যকর অডিয়ো। সূত্রে খবর, অডিয়ো বার্তাটি হামলার শিকার হওয়া ভারতীয় ট্যাঙ্কার ‘সানমার হেরাল্ড’ থেকে পাঠানো হয়েছে।
ইরাক থেকে জ্বালানি ভরে ফিরছিল ভারতের দুই জাহাজ জগ অর্ণব ও সানমার হেরল্ড। কেশম ও লারাক দ্বীপের কাছে জাহাজ দু’টিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইরানের নৌসেনা। এরপরই নয়াদিল্লির সাফ বার্তা, এই ধরনের কার্যকলাপের জন্য তেহরানকে ফল ভুগতে হবে। শনিবারই ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালিকে তলব করে বিদেশ মন্ত্রক। সূত্রে খবর, দীর্ঘক্ষণ কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদেশ মন্ত্রক।
তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর মেলেনি। জানা গিয়েছে, একটি জাহাজের কেবিনের কাচ ভেঙে গিয়েছে। আর তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অস্থির পরিস্থিতিতে শেষমেশ মুখ খুলেছে তেহরান। রবিবার ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ডঃ আবদুল মাজিদ হাকিম ইলাহি বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে সেভাবে কিছু জানি না। আশা করছি, সমস্ত সমস্যা মিটে যাবে। একটা কথা মাথায় রাখবেন, ভারত ও ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। তেহরান আর যুদ্ধ চায় না। শান্তি চায়। আমাদের আশা, বিপরীত পক্ষও যেন সেই বিষয়টি মেনে চলে।’
এরইমাঝে স্বস্তির খবর। শনিবার বিকেলে হরমুজ প্রণালী পার করেছে ভারতীয় পতাকাবাহী দশম জাহাজ দেশ গরিমা। এতে অপরিশোধিত তেল রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গন্তব্য মুম্বই বন্দর। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের তরফে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে হরমুজ পার করার জন্য অপেক্ষায় ১৭টি জাহাজ। এর মধ্যে চারটি এলপিজি, তিনটি এলএনজি ও ১০টি অপরিশোধিত তেলের ট্যাঙ্কার রয়েছে।