Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন ক্যাডাররাই ভিড়েছে ‘হাট’-এ

কোমর ভেঙে যাওয়া জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের (আইএম) পলাতক ও বসে যাওয়া সদস্যরা এখন ভিড়েছে হিজবুত তাহরিরতে (হাট)। এই সংগঠনের পুরনো সদস্যদের সক্রিয় করার কাজ করছে হাট।

ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন ক্যাডাররাই ভিড়েছে ‘হাট’-এ
  • ৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কোমর ভেঙে যাওয়া জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের (আইএম) পলাতক ও বসে যাওয়া সদস্যরা এখন ভিড়েছে হিজবুত তাহরিরতে (হাট)। এই সংগঠনের পুরনো সদস্যদের সক্রিয় করার কাজ করছে হাট। তাদের সংগঠনের মাথায় রেখে  বিভিন্ন জায়গায় স্লিপার সেল তৈরি শুরু করেছে ‘হাট’। ঝাড়খণ্ড পুলিসের হাতে ধৃত আই এম জঙ্গি আম্মার ইয়াসেরকে জেরা করে এই তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। কারা কারা হাটে নাম লিখিয়েছে, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

আইএমের মাথা ইয়াসিন ভাটকল ধরা পড়ে যাওয়ার পরই এই জঙ্গি সংগঠনটি ভেঙে যায়। পরপর গ্রেপ্তার হয় এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জঙ্গি। অনেকেই পালিয়ে যায় বাংলাদেশে। সংগঠন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ার পর স্লিপার সেলের সদস্যরা গা ঢাকা দেয়। আইএমের লোকজন ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে, দীর্ঘদিন পর তা জানতে পারলেন গোয়েন্দারা। রহস্য ভেদ হয় ঝাড়খণ্ড এটিএসের হাতে ‘হাট’এর চার জঙ্গি গ্রেপ্তার হওয়ার পর। তাদের জেরা করতেই জানা যায়, হাট দেশের বিভিন্নপ্রান্তে স্লিপার সেল খুলে বসেছে। তাদের মাথারা বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সংগঠনের শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা এখানে স্লিপার সেল বাড়ানো ও দেখভালের জন্য বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের পলাতক বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পাশাপাশি সাজা খেটে বেরোনো জঙ্গি নেতাদের বিষয়ে খোঁজখবরও চলছিল।  এক্ষেত্রে তাদের মূল টার্গেট ছিল আইএম ক্যাডাররা। ধৃতরা গোয়েন্দাদের জানায়, আইএমের সদস্যরা প্রশিক্ষিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের স্লিপার সেল  ছিল। পাশাপাশি আইএমের সদস্যদের লজিস্টিকাল সাপোর্ট দেওয়া ব্যক্তিরাও রয়েছে। আইএম’এর সেই নেটওয়ার্ককেই তারা ব্যবহার করতে চাইছে। যাতে সহজেই হাটের সংগঠনকে ছড়িয়ে দেওয়া যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে হাটের সদস্যরা বিভিন্ন নামে একাধিক প্রোফাইল খোলে। সেখানে বিভিন্নজনকে বন্ধুত্বের আহ্বান জানানো হয়। বাছাই করা হয় আইএম’এর পুরনো জঙ্গিদের। সেই সূত্র ধরেই তাদের আম্মার ইয়াসেরের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। ১২ বছর সাজা খাটার পর বছর খানেক আগে সে জেল থেকে বেরিয়ে আসে। গোয়েন্দারা জেনেছেন, ইয়াসেরের মাধ্যমে তারা বিহার, ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে বা গা ঢাকা দিয়ে থাকা আইএমের একাধিক মাথার সঙ্গে যোগাযোগ করে। সূত্রের খবর, বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণে সাজা শেষ করে বেরোনো কয়েকজন জঙ্গি হাটে নাম লিখিয়েছে। এই দুই রাজ্যে  আইএম শক্তিশালী ছিল। তাই এখানে এই 
জঙ্গি সংগঠনের যে সমস্ত সদস্য কাজ করত, তাদের নিয়ে স্লিপার সেল তৈরি করতে চাইছে হাট। পাশাপাশি রাজ্যেও আইএমের হয়ে কাজ করা জঙ্গিদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দলে টানার কাজও হিজবুত তাহরি শুরু করেছ বলে খবর। এরপরই আইএমের পলাতক সদস্যদের গতিবিধি নিয়েও খোঁজখবর শুরু করেছেন গোয়েন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ