সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এককালে সুন্দরবনের পুকুর ও ভেড়িগুলিতে বহু প্রজাতির কচ্ছপ দেখা যেত। সেই দৃশ্য এখন বিরলপ্রায়। ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাপ শেল টার্টলেরও কি একই পরিণতি হতে চলেছে? এই আশঙ্কাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকলের মনে। গত কয়েক বছরে এই প্রজাতির কচ্ছপ নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। কখনও-বা ধরে বাজারে বেচে দিয়েছেন স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। ফলে মিষ্টিজলের এই কচ্ছপের অস্তিত্ব সঙ্কট উপস্থিত হয়েছে।
সুন্দরবনে স্পটেড পন্ড টার্টেল, পিকক সফট টার্টেল, গ্যাঞ্জেটিক শেল টার্টেল সহ পাঁচ-ছয় প্রজাতির কচ্ছপ আগে দেখা যেত। এরা প্রত্যেকেই মিষ্টিজলের প্রাণী। এদের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা কমেছে। জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জেডএসআই) এই বিষয়ে গবেষণাকরে দেখেছে যে, সুন্দরবনের পুকুরগুলিতে এই কচ্ছপের প্রজাতিগুলির তেমন দেখা মিলছে না। মিষ্টিজলের কচ্ছপ বলতে এখন কেবল ফ্ল্যাপ শেল টার্টেলই অবশিষ্ট। কিন্তু যে হারে তাদেরও নিধন চলছে, তাতে তারাও কতদিন থাকবে, সেটাই এখন প্রশ্ন। তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, সুন্দরবনের গ্রামগুলিতে যাঁরা পুকুরে চাষবাস করেন, তাঁরা বছরে অন্তত একবার পুকুরের জল সম্পূর্ণরূপে ছেঁচে ফেলেন। এই কচ্ছপগুলি সাধারণত জলের তলদেশে থাকে। জল কমে গেলে, তারা মাটির মধ্যে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পুকুর খননের সময় হয় তারা মারা যায়, অথবা গ্রামবাসীরা তাদের ধরে খেয়ে ফেলে। ফ্ল্যাপ শেল টার্টেলদের নিয়েও এখন একই ঘটনা ঘটছে।
জেডএসআইয়ের বিজ্ঞানী কৌশিক দেউটি বলেন, এই প্রজাতির কচ্ছপগুলি সংরক্ষিত প্রাণীদের তালিকাভুক্ত। এদের হত্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবুও সুন্দরবনের বহু স্থানে তাদের মারা হচ্ছে। এমনকী বিপন্নপ্রায় প্রাণীদের মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য। এই প্রবণতা বন্ধ না-হলে সুন্দরবন এলাকায় তারা অদৃশ্যই হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। কিন্তু তারা কি আদৌ সে-কথা শুনছে?