দুবাই: এশিয়া কাপে রবিবার সুপার ফোরে ফের পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে পারে ভারত। এমনকী, দু’দলের ফাইনালে মোকাবিলা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অর্থাৎ, চলতি আসরে আরও দু’বার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দু’দল বাইশ গজে লড়াইতে নামতে পারে। ‘মেন ইন ব্লু’ অবশ্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে হাত না মেলানোর নীতিই বহাল থাকছে আপাতত। ফলে, টসের সময় সলমনের সঙ্গে হাত মেলাবেন না সূর্য। বাকিরাও মেনে চলবেন সেই নীতি। কিন্তু ভারত যদি চ্যাম্পিয়ন হয় তাহলে কী হবে? পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি-ই এখন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট। চ্যাম্পিয়ন দলকে তাঁরই ট্রফি দেওয়ার কথা। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হলে সূর্যরা কি নাকভি’র হাত থেকে ট্রফি নেবেন? এই নাকভি-ই ভারতীয় দলের হাত না মেলানো নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। কিন্তু তিনিই আবার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি। জয়ী দলকে ট্রফি তাঁরই দেওয়ার কথা। এই নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
পাক খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত না মেলানো নিয়ে রবিবার ম্যাচের পর প্রচারমাধ্যমের সামনে সূর্য বলেছিলেন, ‘আমরা সবাই একজোট হয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে শুধুমাত্র খেলতেই এসেছি। যথাযথ জবাবই দিতে পেরেছি আমরা।’ এক পাক সাংবাদিক জানতে চান হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা? জবাবে সূর্যর বক্তব্য, ‘আমার মনে হয় জীবনে কিছু জিনিস স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের আগে রয়েছে। আমরা পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানায় নিহতদের পরিবারের পাশে রয়েছি। আর এই জয় উৎসর্গ করছি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে।’ এর কিছুক্ষণ আগে পুরস্কার বিতরণের মঞ্চেও একই সুরে মন্তব্য রেখেছিলেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে এক বোর্ডকর্তা সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘বিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলাতেই হবে, এমন কিছু কিন্তু লেখা নেই নিয়মের বইতে। এটা আসলে সৌজন্য। কোনও আইন নয়। ফলে বিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য নয় টিম ইন্ডিয়া।’ আসলে পহেলগাঁওয়ে ২৬ জনের মৃত্যু এবং অপারেশন সিন্দুরের পর পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা নিয়ে অনেকেরই আপত্তি ছিল। সেজন্যই ভারতীয় ক্রিকেটাররা সর্বসম্মতভাবে প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন।