


সৌরাংশু দেবনাথ, আমেদাবাদ: ফিল দ্য থ্রিল!
কুড়ি ওভারের বিশ্বযুদ্ধের রিংটোন এটাই। রবিবার ফাইনালের আগে অবধারিতভাবেই যা চরমে। এমনিতেই কাপযুদ্ধ মানে শেষ হার্ডল। হয় উৎসবে মেতে ওঠা। না হলে সরব কান্না। ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনাল যার জলজ্যান্ত উদাহরণ। ‘প্রেসার’ শব্দটা তাই ফেভিকলের আঠার মতোই অদৃশ্যভাবে জড়িয়ে পড়ে। সেই বাঁধন ছেঁড়া মুশকিল। সূর্যকুমার যাদব অবশ্য উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। মুখে হাসিটা লেগেই রয়েছে সর্বক্ষণ। পুরনো প্রসঙ্গ টানতেই একগাল হাসি, ‘আরে, তিন বছর তো হয়ে গিয়েছে। আবার ওই ফাইনালের কথা কেন?’
মোতেরার বাইশ গজ নিয়ে তুমুল চর্চা ক্রিকেটমহলে। অতীতে এখানের ‘ব্ল্যাক সয়েল’ পিচে খেলে হেরেছে ভারত। ‘রেড সয়েল’ নাকি ‘মিক্সড সয়েল’? ফাইনালে কেমন পিচ চাইছেন? সূর্য বলটা পড়তেই দিলেন না। তার আগেই পাঠালেন সীমানার বাইরে, ‘যে পিচই দিক না কেন, খেলতে তো হবেই। তাই না?’ পরে যদিও জানা গেল, রবিবারের উইকেটে থাকছে লাল-কালোর মিশ্রণ। তবে কালোর ভাগটা কম। আর এই বাইশ গজের সঙ্গে ‘মেন ইন ব্লু’র অতীত হারের কলঙ্ক লেগে নেই। দীর্ঘসময় পিচ পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত ক্যাপ্টেনকে যা নিঃসন্দেহে স্বস্তি দিচ্ছে।
স্পিনের বিরুদ্ধে ভারতের স্ট্রাইক রেট মাত্র ১২০। দুশ্চিন্তার কিছু নেই তো? ‘স্কাই’ এবারও বেপরোয়া, ‘যদি তা নিয়েই ফাইনাল খেলি, অসুবিধা কীসের?’ বিশ্বকাপে অফ স্পিনে ১৫টা উইকেট হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। নিউজিল্যান্ডের কিন্তু দু’জন অফ স্পিনার। সঙ্গে জোড়া বাঁ-হাতি স্পিনারও। ফের স্টেপ আউট, ‘ওদের ক’জন অফ স্পিনার, তা জেনে লাভ কী? কেউ না কেউ ঠিক সামলে নেব।’ শরীরী ভাষায় চুঁইয়ে পড়ছে আত্মবিশ্বাস। ভরসা থাকল ফর্মে না থাকা বরুণ চক্রবর্তীর উপরেও।
ফর্ম হাতড়ে বেড়ানো অভিষেক শর্মাকে নেটে দীর্ঘসময় দেখাল সাধনামগ্ন। প্রতিযোগিতা জুড়ে ব্যর্থ তিনি কি ফাইনালের জন্যই জমিয়ে রেখেছেন সেরাটা? তাৎপর্যের হল, অভিষেকের ব্যাটিং খুব মন দিয়ে দেখলেন সূর্য। যেন পরখ করে নিলেন তাঁকে। কুলদীপ যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দর আবার হাত ঘোরালেন দীর্ঘক্ষণ। যশপ্রীত বুমরাহ চায়নাম্যানের ভঙ্গি নকল করলেন। অক্ষর প্যাটেলের সঙ্গে হাসিমুখে পোজও দলেন। ফিল দ্য থ্রিল নয়, রীতিমতো ‘ফিল গুড’ মেজাজ!
আইসিসি ইভেন্টে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের রেকর্ড বিশেষ ভালো নয়। ফলে টেনশনের চোরাস্রোত বইছেই। সূর্য যথারীতি রসিক, ‘ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের ফাইনালে নেতৃত্ব দেব, চাপ তো থাকবেই। সেটাই তো মজা। নাহলে নিজের সেরাটা বের করব কীভাবে? আমরা তৈরি।’ রোহিত শর্মার দেখানো পথে হাঁটার ঘোষণাও থাকল। তার জন্য অবশ্য রবিবার হাতে কাপ ওঠা জরুরি!