নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শীতের কুয়াশা মোড়া রাত আর নেই বটে। তবে ঘুটঘুটে অন্ধকারে কাঁটাতারহীন আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে যে! সেই সীমান্ত ব্যবহার করে এখনও চলছে অনুপ্রবেশ। বুধবার রাতে ঠিক এরকমই এক চোরাপথে ভারতে ঢুকে ‘শেল্টার’ নিয়েছিল তিন অনুপ্রবেশকারী। বিশেষ অভিযানে ওই রাতেই ‘নিরাপদ শেল্টার’ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের ধরে এনেছিল গাংনাপুর থানার পুলিস। এবার তাদের জেরা করে শুক্রবার গভীর রাতে একটি বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হল আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রে যুক্ত দু’জনকে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চোরাপথে মোটা টাকার বিনিময়ে এদেশে নিয়ে আসার কাজ করত ধৃতরা।
শীতের রাত ছিল অনুপ্রবেশের পৌষমাস। কিন্তু হিমেল আবহাওয়া প্রাকৃতিক নিয়মেই বদলে এখন বসন্তের রাত। কুয়াশার চাদরের আড়াল না থাকলেই বা কী! অন্ধকার তো আছেই। সেইসঙ্গে একাধিক জায়গায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত এখনও নেই কাঁটাতার। ব্যাস, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফের অনুপ্রবেশ শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই বুধবার রাতে তিন অনুপ্রবেশকারী চোরাপথে বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকে। গোপন সূত্রে গাংনাপুর থানার কাছে সেই খবর আসে। আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের ভারতীয় দালালদের সৌজন্যেই অনুপ্রবেশকারীদের দেওয়া হয়েছিল নিরাপদ শেল্টার। গাংনাপুর থানা এলাকার একটি বাড়ির সেই শেল্টারে হানা দেয় পুলিসের একটি বিশেষ দল। তাতেই হাতেনাতে ধরা পড়ে তিনজন। ধৃতদের নাম জাফর মিঞা, কাজি আকাশ এবং কাজি মনিরুল হক। ধৃতরা বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা। বুধবার রাতের অন্ধকারে তারা রামনগরে কাঁটাতারবিহীন আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল রুটিরুজির খোঁজ। হেফাজতে নিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের জেরা করে গাংনাপুর থানা। তাতেই উঠে আসে দুই দালালের নাম। এরপর শুক্রবার রাতের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সাহেব আলি মণ্ডল এবং স্বপন বিশ্বাস নামে ওই দুই ভারতীয় দালালকে। তারা দু’জনেই নদীয়ার গাংনাপুর থানা এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রথমে গাংনাপুরে শেল্টার দেওয়া হলেও, পরে অনুপ্রবেশকারীদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। যদিও পুলিসের তৎপরতায় তা বানচাল হয়ে যায়। পরে গ্রেপ্তার করা হয় দুই দালালকেও। আপাতত ধৃতদের জেরা করে সক্রিয় দালাল চক্রের বাকিদের খোঁজ পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, শীতের মরশুম যাওয়ার পর অনুপ্রবেশ খানিকটা থিতু হয়েছিল। সম্প্রতি সেই প্রবণতা ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। রানাঘাট জেলা পুলিসের সীমান্ত লাগোয়া তিন থানা, হাঁসখালি, ধানতলা ও গাংনাপুর এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।