নয়াদিল্লি: সুযোগ সুবিধার খামতি নেই। বিশ্বমানের ফিটনেস ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে বেঙ্গালুরুতে। যার পোশাকি নাম সেন্টার অব এক্সেলেন্স। সেখানে চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ভারত কেন, বিশ্বের যে কোনো রিহ্যাব সেন্টারকে টেক্কা দিতে পারে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্স। তার পরেও
চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের তালিকা বেড়েই চলেছে। ওয়াশিংটন সুন্দর চোটের কারণে শ্রীলঙ্কায় যেতে পারছেন না। তাঁর জায়গায় স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে মধ্যপ্রদেশের ৩৩ বছর বয়সি সারাংশ জৈনকে দলে নেওয়া হয়েছে। পেসার হর্ষিত রানার চোট রয়েছে। নীতীশ রেড্ডি দীর্ঘদিন ধরে আনফিট। সাই সুদর্শনও পুরো ফিট নন। তাঁকে শর্তসাপেক্ষে দলে রেখেছেন নির্বাচকরা। একের পর এক ক্রিকেটারের চোট আঘাত সমস্যায় যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বিসিসিআই। অনেকদিন ধরেই ক্রিকেটারদের ফিটনেস ইস্যু নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছিল। শ্রীলঙ্কা সফর থেকে বুমরাহর ছিটকে যাওয়াটা ঘৃতাহুতির কাজ করেছে। বিসিসিআই কর্তাদের সাফ কথা, ক্রিকেটারদের সুযোগ সুবিধায় কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। একাধিক সাপোর্ট স্টাফ রাখা হয়েছে। উন্নত রিহ্যাব সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। তার পরেও যদি চোট সমস্যা দলকে দুর্বল করে, তাহলে তো সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সূত্রের খবর, টিম ইন্ডিয়ার ফিজিওথেরাপিস্ট কমলেশ জৈনের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট বোর্ড কর্তারা। ২০২২ সালে তিনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর কাজ হল, চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের দ্রুত সারিয়ে তোলা। ফিটনেস লেভেল বাড়ানো। কিন্তু ঘটছে তার উলটো। ক্রিকেটাররা চোট সারিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের সমস্যায় পড়ছেন। যেমনটা ঘটেছে বুমরাহর ক্ষেত্রে। ভারতীয় দলের মেডিকেল টিম বুমরাহর ফিটনেস টেস্ট নিয়ে জানিয়েছিল, শ্রীলঙ্কায় দুটো টেস্টই খেলতে পারবেন তারকা পেসার। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। জানানো হয়, বুমরাহকে আরও বিশ্রাম দিতে হবে। তাই পরিবর্ত হিসেবে আকিব নবিকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, বুমরাহকে ফিট ঘোষণা করা হয়েছিল কার নির্দেশে? সূত্রের খবর, ফিজিও কমলেশ জৈনের পাশাপাশি স্ট্রেংথ ট্রেনার সোহম দেশাইয়ের কাজে খুশি নন বিসিসিআই কর্তারা। তাঁকে সরিয়ে অ্যান্ড্রু লিপাসকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। উল্লেখ্য, লিপাসকে আগেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি।
এমনিতেই আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের ব্যর্থতার পর টিম ইন্ডিয়ার সাপোর্ট স্টাফে পরিবর্তন ঘটেছে। দেওয়াল লিখন পড়তে পেরে সহকারি কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন রায়ান ডয়েশকাটে। ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের চাকরি গিয়েছে। তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন শুভদীপ ঘোষ। হেড কোচ গম্ভীরও আতশকাচের তলায়। শ্রীলঙ্কা সফরে রেজাল্ট খারাপ হলে বোর্ড যে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে, তার ইঙ্গিত স্পষ্ট।