


সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: নেটে বুমরাহর শেষ বলটা পারফেক্ট ইয়র্কার। উড়ে গেল তিনটি স্টাম্পই। বুমবুম হাঁটা দিলেন ড্রেসিং-রুমের দিকে। কোনও অঙ্গভঙ্গি, উত্তেজনা নেই, স্রেফ একটা ছোট্ট মাথা নাড়া। যেন নিজেকে বললেন, ‘হ্যাঁ, লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।’ পাশের নেটে ঈশান কিষান রিভার্স স্কুপ মারলেন। কিন্তু না বলের দিকে তাকালেন, না ব্যাটের দিকে। দৃষ্টি সোজা আকাশে। সেই চাহনিতেই লেখা ছিল, ‘জানি ছক্কা।’ ইডেনের গ্যালারিতে প্র্যাকটিস দেখতে আসা অনুরাগীরা রীতিমতো উল্লাসে ফেটে পড়লেন। আঁচ পাওয়া গেল রবিবার ইডেনের মহারণের জন্য তৈরি ‘মেন ইন ব্লু’। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে লড়াই নিছকই সুপার এইটের নয়, অঘোষিত কোয়ার্টার-ফাইনাল।
যুদ্ধের জন্য তৈরি ইডেনও। নন্দনকানন অনেক ঐতিহাসিক ম্যাচের সাক্ষী। তবে এই লড়াই টিম ইন্ডিয়ার টিকে থাকার। তাই চূড়ান্ত মহড়ায় সূর্যকুমারদের উত্সাহ জোগাতে হাজির শচীনের পাগল ভক্ত সুধীর কুমার বা ধোনির রাম বাবু। এখন লাখ টাকার প্রশ্ন, ঈশান-অভিষেকরা সমর্থকদের আস্থার মর্যাদা রাখতে পারবেন তো? প্রশ্নটা আসা স্বাভাবিক। কারণ, দক্ষিণ আফ্রিকা বুঝিয়ে দিয়েছে এই ভারত অপরাজেয় নয়। তারপরেই প্ল্যান-‘বি’র পথে হাঁটতে হয়েছে গম্ভীরকে। ওপেনিংয়ে ফিরেছেন সঞ্জু। তিনে ঈশান এবং তিলক ছয়ে। ব্যাটিং পজিশনে হঠাত্ এই অস্থিরতা ইডেনে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে ভোগাবে না তো? কারণ, মাথায় রাখতে হবে, জিম্বাবোয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক নয়!
হেড টু হেডে অবশ্য এগিয়ে ভারত। টি-২০ ফরম্যাটে মোট ৩০ সাক্ষাতের মধ্যে ১৯ বার জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। সেই সঙ্গে রয়েছে হোম অ্যাডভান্টেজ। তাছাড়া ব্যাটিং লাইন-আপ সোনায় মোড়া। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রয়েছে ঈশান, সূর্যদের। অস্তিত্বের লড়াইয়ে তাই ব্যাটিংই মূল অস্ত্র টিম ইন্ডিয়ার। তবে স্লোয়ার ও শুরুতে স্পিন খেলতে অসুবিধা হচ্ছে অভিষেকদের। দুর্বলতা নিশ্চয় চোখ এড়ায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ইডেনের পিচে বাউন্স থাকবে। তাই বল হাতে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন বুমরাহ। তবে একটা চিন্তা থেকেই যাচ্ছে— মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর অফ ফর্ম। চলতি আসরে তাঁকে অনায়াসে খেলে দিচ্ছেন বিপক্ষ ব্যাটাররা। রহস্য যদি রহস্য না থাকে, তাহলে অস্ত্র হিসেবে তা মূল্যহীন।
পক্ষাম্তরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজও চ্যালেঞ্জ ছুড়তে প্রস্তুত। টি-২০ ফরম্যাটে শাই হোপরা কতটা ভয়ঙ্কর, তা আলাদা করে উল্লেখের প্রয়োজন নেই। ৭-৮ নম্বর পজিশন পর্যন্ত পাওয়ার হিটারে ছড়াছড়ি। ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডসদের উত্তরসূরিরা তাই রবিবার অবিশ্বাস্য কিছু করতে মুখিয়ে রয়েছেন। ব্রেন্ডন কিং, শিমরন হেটমায়ার দুরন্ত ফর্মে। আর কোচ ড্যারেন স্যামির অধীনে এই দলে একটা শৃঙ্খলা এসেছে। বোহেমিয়ান মনোভাবের ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন অনেকটাই পরিশীলিত। তবে বোলিং বিভাগে দুর্বলতা আছে, যা কাজে লাগাতে মুখিয়ে ঈশানরা।
হেড টু হেড, হোম কন্ডিশনে সমর্থকদের শব্দব্রহ্মে অবশ্য এগিয়ে ভারত। কিন্তু শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। রবিবার ইডেনে শুধু এগারো বনাম এগারোর লড়াই নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের অগ্নিপরীক্ষা। চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। রবিবার রাতে মায়াবি ইডেন উত্তেজনায় ফুটবে। আর তখনই বোঝা যাবে, সূর্যের ভারতের দম কতটা!
ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা সাতটায়। সরাসরি স্টার স্পোর্টস ও জিওহটস্টারে।