ইন্দোর: বোলারদের জন্য স্বস্তির কোনো পূর্বাভাস নেই। বরং সিরিজের তৃতীয় টি-২০ ম্যাচেও ব্যাটারদের শাসনে তাঁদের পরিত্রাহি অবস্থা হওয়ার সম্ভাবনা। রাঁচিতে যে দাপটের সঙ্গে আড়াইশো রানের টার্গেটে পৌঁছে গিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তাতে ভারতীয় শিবিরের অসহায়তা স্পষ্ট। রবিবার হোলকার স্টেডিয়ামেও একই চিত্রনাট্য অপেক্ষা করছে। পাটা পিচ আর ছোট বাউন্ডারির কারণে এই মাঠ চিহ্নিত ব্যাটিংয়ের স্বর্গরাজ্য হিসাবে। পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। ফলে পাঁচ সিরিজে ২-১ এগনোর চাবিকাঠি থাকছে উভয়দিকের ব্যাটারদের হাতেই।
গত দু’বছর এখানে কোনো টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি। তবে শেষ তিনটি একদিনের ম্যাচে ৩৯৯, ৩৮৫ ও ৩৩৭ রান উঠেছে। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টি-২০ ম্যাচে এখানেই ২৬০ তোলে টিম ইন্ডিয়া। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শুক্রবার অবশ্য ২৪৯ তুলেও জিততে পারেনি শ্রেয়স আয়ার ব্রিগেড। ফলে বোলিং নিয়ে উদ্বেগ থাকছেই। তার উপর একদিনের সিরিজের মতো প্রথম দু’টি টি-২০ ম্যাচেও রান তাড়া করা দল জয়ী হয়েছে। রাতের দিকে শিশিরের কারণে বল গ্রিপ করতে সমস্যায় পড়ছেন বোলাররা। শুক্রবার তো কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেলের মতো স্পিনাররাও প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, রাত গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শট খেলতে সুবিধা হচ্ছে ব্যাটারদের।
ফলে টস রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তা কারও হাতে নেই। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে হতেই পারে। সেক্ষেত্রে কত রান নিরাপদ? এই প্রশ্ন ধাঁধার মতোই হয়ে উঠছে। কারণ, কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে আড়াইশো রান তুলেও জেতা যাচ্ছে না। এমনকী, পাওয়ার প্লে’র মধ্যে ক্যারিবিয়ানদের তিনটি উইকেট ফেলে দিয়েও রাঁচিতে জয় অধরা থেকেছে ভারতের। অবশ্য ক্যাচ মিসও ডুবিয়েছে শ্রেয়সদের। তবে সেটাও নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এই সিরিজে ভারতের ইতিবাচক দিক হচ্ছে, ক্যাপ্টেন শ্রেয়স আয়ারের ছন্দে ফেরা। প্রথম ম্যাচে ঝোড়ো সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয়টিতে ১৮ বলে ৪০ করেন তিনি। ফর্মে ফিরেছেন সঞ্জু স্যামসনও। রাঁচিতে শতরানের সম্ভাবনাও ছিল তাঁর। বৈভব সূর্যবংশী ডাগ আউটে বসে থাকায় এমনিতেই প্রবল চাপে তিনি। তার উপর গত কয়েকটি ম্যাচে আসেনি রান। আপাতত সঞ্জুকে অবশ্য স্বস্তি দেবে এই ইনিংস। সহ-অধিনায়ক তিলক ভার্মাকেও দেখা গিয়েছে সেরা ছন্দে। কিন্তু অভিষেক শর্মা এই সিরিজে ভালো শুরু করেও বড়ো রান পাননি। চার নম্বরে নেমে হতাশ করেন শিবম দুবেও। বোলিংয়েও তিনি প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ। ইন্দোরে তাই শিবমকে বসিয়ে নীতীশ রেড্ডির প্রথম এগারোয় আসার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকছে।
মায়াঙ্ক যাদবের এক্সপ্রেস গতি আবার দলের বড়ো শক্তি। রাঁচিতে প্রথম স্পেলে তাঁকে বিধ্বংসী দেখিয়েছিল। কিন্তু অন্যপ্রান্তে কেউ উইকেট নিতে পারেননি। একইভাবে ক্যারিবিয়ান বোলারদের মধ্যে সতর্ক থাকতে হবে রোস্টন চেজকে নিয়ে। শুক্রবার তাঁর স্পেলই কিন্তু আটকে দিয়েছিল রানের গতি।
খেলা শুরু সন্ধ্যা ৭টায়। সরাসরি সম্প্রচার
স্টার স্পোর্টস ও জিওস্টারে।



