নয়াদিল্লি: প্যালেস্তাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার সমর্থনে ভোট দিল ভারত। শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪২টি দেশ। তাদের মধ্যে অন্যতম ভারত। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ১০ ও ভোটদানে বিরত থাকে ১২টি দেশ।
নয়াদিল্লি: প্যালেস্তাইনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার সমর্থনে ভোট দিল ভারত। শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৪২টি দেশ। তাদের মধ্যে অন্যতম ভারত। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে ১০ ও ভোটদানে বিরত থাকে ১২টি দেশ।
ফ্রান্স ও সৌদি আরবের যৌথ উদ্যোগে ‘নিউ ইয়র্ক ডিক্লারেশন’ নামে প্রস্তাব পেশ করা হয়। শুক্রবার সাধারণ পরিষদে এই ঘোষণাপত্র জমা পড়ে। কী রয়েছে গৃহীত প্রস্তাবে? ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের দ্বন্দ্ব মেটাতে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্যালেস্তাইন ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ ও দীর্ঘকালীন পর্যায়ে শান্তি ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। দ্বিরাষ্ট্র নীতি কার্যকর করতে এগিয়ে আসতে হবে ইজরায়েলকে। প্যালেস্তানীয়দের বিরুদ্ধে হিংসা, উস্কানি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্যালেস্তাইনের ভূখণ্ড জবরদখল বন্ধ করার আবেদন রয়েছে ঘোষণাপত্রে। সেখানে বলা হয়েছে, গাজা প্যালেস্তাইনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে গাজাকে। কোনও অবরোধ, উচ্ছেদ, জবরদখল করা চলবে না। পাশাপাশি গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধ বন্ধ করার আবেদনও করা হয়েছে।
২০২৩ সালে ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। সেই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে এদিন। পাশাপাশি গাজায় নেতানিয়াহুর দেশ যে ধ্বংসাভিযান চালিয়েছে, তাও সমালোচিত হয়েছে। উঠে এসেছে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যু, বিপর্যয়ের কথা। দ্বিরাষ্ট্র নীতির সমর্থনে ভারত ছাড়াও সব আরব দেশ সায় দিয়েছে। এর আগে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের সময় ভোটদান থেকে বিরত ছিল নয়াদিল্লি। ফলে মোদি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সখ্যর কারণেই এই সিদ্ধান্ত কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপট আলাদা। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের শুল্কযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। এই আবহে ভারতের প্যালেস্তাইনের পক্ষে দাঁড়ানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ইজরায়েল, আমেরিকা, আর্জেন্তিনা, গিনির মতো ১০টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ইজরায়েল প্রস্তাবের নিন্দা করে বলেছে, সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব বাস্তবতার থেকে অনেক দূরে। প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিক সার্কাস’ বলেও উল্লেখ করেছে তারা। পাশাপাশি প্রস্তাবে কোথাও হামাসকে ‘সন্ত্রাসবাদী সংগঠন’ বলা হয়নি বলেও আপত্তি তুলেছে নেতানিয়াহুর দেশ। আমেরিকাও প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছে, এটি হামাসকে উপহার দেওয়া সিদ্ধান্ত।’