দুবাই: এশিয়া কাপের সুপার ফোরে মর্যাদার লড়াইয়ে আবার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান। তার আগে একেবারে যুদ্ধং দেহি মেজাজেই রয়েছেন সূর্যকুমার যাদবরা। সার্জিকাল স্ট্রাইকের মেজাজে সলমন আগা বাহিনীকে চুরমার করার টগবগে আত্মবিশ্বাস শিবিরে। শেষ দশটি মোকাবিলার আটটাতেই বাজিমাত করেছে ভারত। সেই পরিসংখ্যানও নক-আউট পাঞ্চের মনোবল বাড়াচ্ছে।
বাইশ গজে এই লড়াই চিরকালই সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো। যে কোনও সময় বেরিয়ে আসতে পারে আগুনের ফুলকি, লাভাস্রোত। গত সাত দিনে সেটাই হয়েছে। উত্তেজনার পারদ ক্রমশ আকাশছোঁয়া। গত রবিবার টসের সময় পাক অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্য। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও বিপক্ষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করেননি কোনও ভারতীয়। পুরস্কার বিতরণের মঞ্চে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানায় নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন সূর্য। এই জয় ভারতীয় সেনাহবাহিনীকে উৎসর্গ করেন তিনি। ক্ষুব্ধ পাকিস্তান বয়কট করে প্রেস কনফারেন্স। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে নিয়ে জানায় আপত্তি। কিন্তু পিসিবি’র দাবি উড়িয়ে দিয়ে সুপার ফোরের এই ম্যাচেও ফের দায়িত্বে পাইক্রফট। অর্থাৎ, মুখ পুড়েই চলেছে পাকিস্তানের। অক্ষম রাগে অবশ্য শনিবারও মিডিয়াকে বয়কট করল পাকিস্তান। কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ ছাড়াই!
বাইশ গজেও একেবারেই ম্রিয়মাণ দেখাচ্ছে ইমরান খান, ওয়াসিম আক্রামদের উত্তরসূরিদের। ভারতের থেকে এমনিতেও স্কিলে অনেক পিছনে তারা। গত রবিবার কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেলদের ঘূর্ণিজালে একেবারেই অসহায় দেখিয়েছিল ফখর জামান, মহম্মদ হ্যারিসদের। কোনওক্রমে একশো পেরয় তারা। পাক বোলিংয়ের সীমাবদ্ধতা আবার ধরিয়ে দেন অভিষেক শর্মা, সূর্যরা। ক্রিকেটপ্রেমীরা আবার এমন দাপুটে পারফরম্যান্সই চাইছেন গৌতম গম্ভীরের ছাত্রদের থেকে। ফের ‘অপরাশেন সিন্দুর’ দেখার অপেক্ষাতেই দুবাই।
শুক্রবার ওমানের বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচে যদিও সেরা ছন্দে দেখা যায়নি ভারতকে। আসলে প্রতিপক্ষ দুর্বল হলে অনেক সময়ই ভিতর থেকে সেরাটা বেরিয়ে আসে না। অজান্তেই ঘিরে ধরে আত্মতুষ্টি। ওমানের বিরুদ্ধে সাদামাটা পারফরম্যান্সের নেপথ্যে নিশ্চিতভাবে সেটাই কারণ। সুপার ফোরের আগে পরীক্ষার পর্বও সারতে চেয়েছিল ভারত। সেজন্যই বাকিদের সুযোগ দিতে সূর্য ব্যাট করেননি। যশপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী ছিলেন বিশ্রামে। মোট আটজন বোলারকে ব্যবহার করা হয়। চাপের মুখে প্রত্যেককে যাচাই করে নেন সূর্য। মসৃণ জয় না এলেও এই ঝাঁকুনির ইতিবাচক দিক রয়েছে। আত্মতুষ্টিকে এরপর ধারেকাছে ঘেঁষতেই দেবেন না সূর্যরা।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বুমরাহর দলে ফেরা নিশ্চিতভাবেই বাড়াবে পেস আক্রমণের ঝাঁঝ। অক্ষর প্যাটেলকে নিয়ে অবশ্য হাল্কা অনিশ্চয়তা রয়েছে। ওমান ম্যাচে মাথায় চোট পাওয়ায় মাত্র এক ওভার হাত ঘুরিয়েই বেরিয়ে যান তিনি। তবে দল আশাবাদী। অক্ষর একান্তই না পারলে ডাক পেতে পারেন স্ট্যান্ডবাই ওয়াশিংটন সুন্দর বা রিয়ান পরাগ। অবশ্য যিনিই খেলুন, পাক ম্যাচের আগে যুদ্ধং দেহি মনোভাবটা একই থাকছে।