দুবাই: উল্টোদিকে পাকিস্তান মানেই রক্ত গরম হয়ে ওঠা। হ্যাঁ, ওই দেশ শুধু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়, চিরশত্রুও। তাই ক্রিকেটের বাইশ গজের মোকাবিলাতেও অপারেশন সিন্দুরের অপেক্ষা। রবিবার মরুশহর দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ম্যাচে সলমন আগা-ব্রিগেড বধে তৈরি সূর্যকুমার যাদবের ভারত। আগ্নেয়াস্ত্রর বদলে হাতিয়ার বল এবং ব্যাট। এই ম্যাচ নিছকই খেলা নয়, চোখ রাঙানোর মঞ্চও বটে। শুভমান গিল-যশপ্রীত বুমরাহরা তা ছেলেবেলা থেকেই জানেন। তাই দুবাইয়ের আবহাওয়ার মতোই তেতে রয়েছেন তাঁরা। আর তা থাকারই কথা। কারণ, সাম্প্রতিক অতীতের পারফরম্যান্সের রিংটোন, হেরো পাকিস্তান। তাই সেই ধারা বজায় রাখতে সার্জিকাল অ্যাটাকের অপেক্ষায় আসমুদ্রহিমাচল।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যে হাই-ভোল্টেজ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জেতার জন্য স্ট্র্যাটেজির কচকচানি নয়, প্রয়োজন বিপক্ষকে দুরমুশ করে দেওয়ার মানসিকতা। আর এই জায়গাতেই কয়েক যোজন এগিয়ে টিম ইন্ডিয়া। হার্দিক পান্ডিয়া-কুলদীপ যাদবদের বাড়তি মোটিভেশন জোগাতে রয়েছে পহেলগাঁও সন্ত্রাস। এক, দুই কিংবা তিন নয়— ২৬ জন অসহায় ভারতবাসীর মৃত্যুর পর টিম ইন্ডিয়ার ক্যাচলাইনে একটাই শব্দ। বদলা। পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের রিপ্লে দেখানোর আশায় গৌতম গম্ভীরের দল।
তুল্যমূল্য শক্তির নিরিখে এই ম্যাচে ভারতই ফেভারিট। আর আন্ডারডগ পাকিস্তান। দূরত্বটা মিটার কিংবা কিলোমিটারের নয়, আলোকবর্ষের। নক্ষত্রখচিত টিম ইন্ডিয়ায় জ্বলজ্বল করছেন বিধ্বংসী অভিষেক শর্মা, নির্ভরযোগ্য শুভমান গিল। যে কোনও দিন নায়ক হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা, সঞ্জু স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেলের। আট নম্বর পর্যন্ত মারকাটারি ব্যাটার। আর বোলিং? সাদা বলের গোলায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন-আপ গুঁড়িয়ে দিতে পারেন বুমবুম বুমরাহ-শিবম দুবেরা। আর পিচ যদি স্পিন সহায়ক হয় তাহলে তো কথাই নেই। ঘূর্ণির মায়াজালে শত্রুপক্ষকে নাচাতে সক্ষম কুলদীপ যাদব-বরুণ চক্রবর্তীরা। প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছেন বাঁ হাতি চায়নাম্যান বোলার। হাত দেখে তাঁর বল বুঝতে পারছেন না ওয়াসিম আক্রামের মতো বিশেষজ্ঞ। বরুণের মোকাবিলা করা একইরকম কঠিন। তাঁর রহস্য ভেদ করার জন্য কোনও ফেলুদা বা ব্যোমকেশ বক্সি নেই মাইক হেসন-ব্রিগেডে। ওয়াঘার ওপারের দল নিতান্তই সাদামাটা। বাবর আজম-মহম্মদ রিজওয়ানদের মতো তারকাকে ছেঁটে ফেলে এশিয়া কাপে এসেছে তারা। ওমানের বিরুদ্ধে জিতলেও মোটেই অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছে না পাকিস্তানকে। প্রথম ম্যাচে মহম্মদ হ্যারিস রান পেলেও কেউকেটা নন। ক্যাপ্টেন সলমন আগা তো পয়লা বলে ডাগ-আউটে ফিরে আত্মবিশ্বাস হারিয়েছেন। পাকিস্তান বোলিং অনেকটাই নির্ভর বাঁ-হাতি পেসার শাহিন আফ্রিদির উপর। তবে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হওয়ার প্রভাব তাঁর পারফরম্যান্সে প্রকট। এই ম্যাচে তাই তিন স্পিনার সুফিয়ান মুকিম, আরবার আহমেদ ও সাইমকে দিয়েই ভারতকে রোখার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। কিন্তু কে না জানে, ভারতীয় ব্যাটারদের স্পিনের ভেল্কিতে বশ মানানো শুধু কঠিন নয়, না-মুমকিনও। তাই অঘটন না ঘটলে রবিবার রাতের আকাশে আনন্দের হাউই ওড়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।