নয়াদিল্লি, ১০ মে: ভারতের প্রত্যাঘাতে শেষমেশ মাথা নত করল পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দরবারও করল পাক সরকার। এরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ভারত ও পাকিস্তাকে ধন্যবাদ। দু’দেশই সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। এক্স হ্যান্ডেলে এমনই দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপরই পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। আজ, শনিবার সন্ধ্যায় মিনিট খানেকের জন্য সাংবাদিক বৈঠকে করেন ভারতীয় বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। বলেন, শনিবার বিকেল ৫টা থেকেই ভারত এবং পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, জল, স্থল ও আকাশপথে দু’দেশ একে অপরের উপর আক্রমণ চালাবে না। দু’দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে কথাও হয়েছে। আগামী ১২মে দুপুর ১২টায় ফের দু’দেশের ডিজিএমও পর্যায়ে বৈঠক হবে। অপরদিকে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্তে দুই দেশই সম্মত। তবে সন্ত্রাসের সঙ্গে কোনওরকম সমঝোতা করা হবে না। অন্যদিকে, এই ঘোষণার আগেই আজ দুপুরে নয়াদিল্লির বাসভবনে জরুরি বৈঠক করেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর প্রধানও।
প্রসঙ্গত, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলা এবং নিরীহ মানুষদের গুলি করে খুন করা হয়। এরপরই জঙ্গি দমনে কড়া পদক্ষেপ নেয় ভারত। প্রথমেই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে ভারত। তারপরই সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি চালাতে শুরু করে পাক সেনা। কড়া জবাব দেন ভারতীয় জওয়ানরাও। এরপর অপারেশন সিন্দুর শুরু করে ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি দমনে প্রত্যাঘাত করে ভারতীয় সেনা। মিসাইল, ড্রোনের আঘাতে গুঁড়িয়ে যায় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। পুঞ্চ-সহ একাধিক এলাকায় হামলা চালায় পাকিস্তানও। তুরষ্ক থেকে পাওয়া প্রায় ৪০০ ড্রোন দিয়ে ভারতে হামলা চালায় পাক সেনা। কিন্তু রাশিয়ান এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এস ৪০০ দিয়ে সমস্ত ড্রোন, মিসাইল মাঝ আকাশেই রুখে দেয় ভারতীয় সেনা। উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বাড়তে থাকে। এর মাঝেই নতুন সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। পাকিস্তানকে দেওয়া হয় চরম হুশিয়ারি। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতের বিরুদ্ধে কোনওরকম সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম হলে তাকে যুদ্ধ বলেই গণ্য করবে ভারত সরকার। ভবিষ্যতেও এমন কাজ হলে তার উপযুক্ত জবাব দেবে ভারত।



