নয়াদিল্লি: অশান্ত পশ্চিম এশিয়া। ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালীও। তাই জ্বালানি পরিবহণ নিয়ে এখনও ভুগছে গোটা বিশ্ব। চাপে পড়েছে ভারতও। এরইমাঝে স্বস্তি দিল নয়াদিল্লি-ওমান বাণিজ্য চুক্তি। সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে ইরান-ওমান কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা)। আর সেইসূত্রে অবরুদ্ধ হরমুজ এড়িয়ে এবার পণ্য পরিবহনের নতুন পথও খুলে যাচ্ছে। এর কারণ ওমানের ভৌগোলিক অবস্থান। সোমবার এমনই জানাল থিঙ্কট্যাঙ্ক জিটিআরআই। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের বক্তব্য, এটি শুধুমাত্র কোনো বাণিজ্য চুক্তি নয়। ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
সংস্থার কথায়, এই চুক্তির আসল গুরুত্ব লুকিয়ে রয়েছে ওমানের ভৌগোলিক অবস্থানে। অন্যান্য দেশের মতো ওমানকে হরমুজের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। ওমান উপকূলের অধিকাংশটাই হরমুজের বাইরের দিকে রয়েছে। ওমানের বন্দরগুলি মূলত আরব সাগরের তীরে অবস্থিত। তাই হরমুজ অবরুদ্ধ থাকলেও সালালাহ, দুকাম সহ একাধিক বন্দরের মাধ্যমে পণ্য পারাপার সম্ভব। এনিয়ে জিটিআরআই-র প্রধান অজয় শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম ‘গেটওয়ে’ হতে চলেছে ওমান। উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য বড়োসড়ো ধাক্কা খেলেও ওমান ব্যতিক্রম। বর্তমানে ওমান থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ প্রায় ২৪৬ শতাংশ বেড়েছে। এক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল ও ইউরিয়া সার আমদানি করা হয়েছে। আর এই পরিসংখ্যানই বলছে, হরমুজকে এড়িয়ে ওমান এখন ভারতের অন্যতম বাণিজ্যপথ হয়ে উঠছে।