আল আমেরাত: যুব এশিয়া কাপে আবারও পাকিস্তানের কাছে মুখ থুবড়ে পড়ল ভারত। গতবার ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ১৯১ রানে হেরেছিল টিম ইন্ডিয়া। সমর্থকরা আশায় ছিলেন, এবার সেই হারের প্রতিশোধ নেবে নীল জার্সিধারীরা। কিন্তু কোথায় কী! রবিবার ওমানে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ফের ভারতকে বশ মানাল পাকিস্তান। আর্যবীর-অন্বয়রা হারলেন ৩ উইকেটে। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে টিম ইন্ডিয়া তোলে ২০৮। জবাবে ১১ বল বাকি থাকতেই জয়ের কড়ি তুলে নেয় পাক-ব্রিগেড (২০৯/৭)। অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হামজা জাহুর। এই জয়ের সুবাদে গ্রুপ এ’তে শীর্ষস্থান মজবুতের পাশাপাশি সেমি-ফাইনালেও জায়গা পাকা করল পাকিস্তান।
যুব হোক বা সিনিয়র— ভারত-পাক ম্যাচ মানেই মর্যাদার লড়াই। তাতে লক্ষ্য-আর্যবীরদের এমন ভরাডুবিতে হতাশ সমর্থকরা। মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতাই ডোবাল দলকে। ভারতের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক উইকেট ঠিকমতো বুঝতে পারেনি। তাই টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত রীতিমতো বুমেরাং হয়েছে। মাত্র ৪২ রানেই ৪ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ক্যাপ্টেন লক্ষ্য রায়চন্দানি খাতা খুলতেই ব্যর্থ। প্রথম ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই আলি রাজার শিকার তিনি। অপর ওপেনার আর্যবীর কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন ক্রিজে থিতু হওয়ার। তবে ভিনিত ও যশবর্ধন পরপর আউট হলে চাপ বাড়ে। এরপর সেওয়াগের পুত্রও বড়ো শট খেলতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে আসেন। ৪০ বলে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২২। রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে অন্বয়ের ব্যাট থেকেও ১০ রানের বেশি আসেনি। ৮৬ রানে অর্ধেক ভারতীয় দল ডাগ-আউটে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে মরিয়া প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অর্জুন রাজপুত। তাঁর দুরন্ত শতরানই ভেন্টিলেশন থেকে বের করে ভারতকে। ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা সহ ৮৫ বলে ১০৭ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। তবে উলটো দিক থেকে যোগ্য সঙ্গত পাননি অর্জুন। তাই ৪৬.৩ ওভারে ২০৮ রানেই অলআউট ভারত।
রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানও স্বস্তিতে ছিল না। ৬১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল তারা। ভারতীয় বোলার মোহিত উলভা-মানাল চৌহ্বানরা রীতিমতো ভয়ংকর হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ধাক্কা সামলে হামজার ব্যাটে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন পাকিস্তানের। ষষ্ঠ উইকেটে হাসনান ও হামজার ১০৭ রানের জুটি অক্সিজেন জোগায় পাক-ব্রিগেডকে। এরপর হাসনান ৩৮ রান করে আউট হলেও হামজা থামেননি। তিনি গতবারও পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের দলে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঠান্ডা মাথায় দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিতের পাশাপাশি শতরানও পূর্ণ করেন পাক ব্যাটার। ১০৮ বলে তাঁর ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস সাজানো ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায়। তবে ম্যাচ হারলেও ভারতের এখনও সেমি-ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।



