


ভারত- ০ : বাংলাদেশ-০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১২৬ নম্বরে ভারত। ঠিক ৫৯ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ। ডাবল সেঞ্চুরির দিকে পা বাড়ানো প্রতিপক্ষকেও হারাতে ব্যর্থ মানোলো মার্কুয়েজের ভারত। আইএসএলের দৌলতে ভারতীয় ফুটবল রঙিন গ্যাসবেলুন। শুধুই গ্ল্যামার, চটক, গিমিক। ফুটবলারদের প্র্যাকটিসে বাউন্সার। আসলে ভাঁড়ে মা ভবানী। কাককে মেক-আপ করে ময়ূর বানানোর চেষ্টা। আট আনার পুঁইশাকের আবার ক্যাশমেমো। এএফসি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করল ব্লু টাইগার্স। এত জগঝম্পের নীট ফল বড়সড় শূন্য। ঝুরঝুরি মিথ্যার বেসাতি শুনলে এরপর দাওয়াই দেওয়া উচিত। এমন ফুটবলের জন্য বিদেশি কোচের দরকার নেই। সুনীল ছেত্রীও ডাহা ফেল। খড়কুটো আকঁড়ে ধরার মতো ৪০ বছরের ফুটবলারকে ফিরিয়ে এনেছিলেন মানোলো। আখেরে দলের ক্ষতি। নিজেরও। বোঝা উচিত, চাকরি বাঁচাতে পারফরম্যান্স দরকার। সুনীল সোনার দিনে পেরিয়ে এসেছেন। নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। এই ড্রয়ের পর ভারতের পয়েন্ট মাত্র ১। পরের রাউন্ডে ওঠা নিয়েও তীব্র অনিশ্চয়তা। চার দলের গ্রুপে বাকি দুই দেশ হংকং ও সিঙ্গাপুর। শীর্ষে থাকা দল পরবর্তী পর্যায়ের টিকিট পাবে। ম্যাচের পর কোচ মানোলোর মন্তব্য, ‘আমি অত্যন্ত হতাশ। একেবারেই ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স। এটাই ভারতীয় ফুটবলের বাস্তব চিত্র। এভাবে চললে উন্নতি দূরঅস্ত।’
শিলংয়ে ঘরের মাঠে শুরুতেই প্রতিপক্ষের উপর গোল চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মানোলো মার্কুয়েজ। কিন্তু পছন্দের ৪-৪-২ ফর্মেশন একেবারেই দানা বাঁধেনি। বরং প্রথমার্ধে দাপট ছিল হামজা, তপুদেরই। ১১ মিনিটে বিশাল কাইথের ভুলে গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন মহম্মদ হৃদয়। কিন্তু তাঁর প্রয়াস গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন শুভাশিস। এর ছ’মিনিট পরেই ফের সুযোগ পায় বাংলাদেশ। মার্সেলিনের সেন্টার থেকে বাইরে হেড করেন অরক্ষিত ইমন। ভারতের দুই স্টপার সন্দেশ ঝিংগান ও রাহুল ভেকে নিজের জায়গাতেই ছিলেন না। মাঝমাঠ ও ফরোয়ার্ড লাইনের মাঝে বিশাল দূরত্ব। ফলে চাপের মুখে বল কাড়তে মাঝমাঠে নেমে আসতে হল সুনীল ছেত্রীকে। ৩০ মিনিটে সেরা সুযোগ নষ্ট করলেন ফারুখ চৌধুরি। বাঁ প্রান্ত থেকে লিস্টনের সেন্টারে হেড করেন উদান্তা। বাংলাদেশ রক্ষণে তা প্রতিহত হলে ছিটকে আসা বল থেকে জাল কাঁপাতে ব্যর্থ ফারুখ। অন্যদিকে বিরতির আগে জনির পা থেকে নিশ্চিত গোল বাঁচান বিশাল।
লিস্টন কোলাসো এই মুহূর্তে দেশের সেরা উইং হাফ। একমাত্র তিনিই কিছুটা চেষ্টা করলেন। ৬০ মিনিটে রহমতকে টলিয়ে চমৎকার সেন্টার করেন লিস্টন। তবে মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ সুনীল। গোলের জন্য ব্লু টাইগার্স মরিয়া হতেই খোলস ছাড়লেন হামজা চৌধুরি। নিজেদের ডিফেন্সিভ থার্ডে ব্লক করার পাশাপাশি প্রতি-আক্রমণেও উঠলেন। মাঝমাঠে চাপ বাড়াতে এরপর জোড়া পরিবর্তন আনেন মানোলো। ফর্মে থাকা নাওরেম মহেশকে এত দেরিতে নামানোর কারণ বোঝা দায়। ৭২ মিনিটে লক্ষ্যভেদের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন শুভাশিস। এক্ষেত্রে লিস্টনের কর্নার থেকে তাঁর হেড বাইরে যায়। ৮৩ মিনিটে প্লেটে করে বল সাজিয়ে দিয়েছিলেন মহেশ। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বল বাইরে পাঠান সুনীল। শরীর নড়ছে না। বয়স থাবা বসিয়েছে রিফ্লেক্সে। সম্মান থাকতে থাকতে আবার বুটজোড়া তুলে রাখা উচিত।
ভারত: বিশাল, বরিস, ভেকে, সন্দেশ, শুভাশিস, আপুইয়া, আয়ুষ (সুরেশ), লিস্টন, উদান্তা (মহেশ), ফারুখ ও সুনীল।