গল: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সুযোগ এখনও রয়েছে ভারতের সামনে। তবে বাকি ন’টি টেস্টের মধ্যে কমপক্ষে ছ’টিতে জিততে হবে। গিলরা দু’টি করে টেস্ট খেলবেন শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। বাকি পাঁচটি ম্যাচ ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালের টিকিট পাকা করার কাজটা হয়তো কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। সেই কারণেই শ্রীলঙ্কার মাটিতে দু’টি টেস্ট জিততে মরিয়া গিল ব্রিগেড। প্রথম টেস্ট শুরু ১৫ আগস্ট। খেলাটি হবে গলে। দুই দলের ক্রিকেটাররা চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সাধারণত দ্বীপরাষ্ট্রের পিচে বল অনেক বেশি টার্ন করে। স্পিনাররাই গড়ে দেন ম্যাচের ভাগ্য। এবারও তার অন্যথা হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই শ্রীলঙ্কাকে তাদের অস্ত্রেই ঘায়েল করতে চাইছে ভারত।
কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে টিম ইন্ডিয়া, তার ইঙ্গিত দিলেন বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। তিনি যা জানালেন, তাতে তিন স্পিনার নিয়ে প্রথম টেস্টে নামতে পারে ভারত। শুধু তাই নয়, তিন স্পিনারই বাঁ-হাতি হতে চলেছেন। কুলদীপ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে মানব সুতারকে খেলানোর ভাবনা ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের। মর্নি জানিয়েছেন, ‘কুলদীপ অ্যাটাকিং স্পিনার। ওর অভিজ্ঞতা আমাদের বড় সম্পদ। সুতার বল একটু বেশি ঘোরায়। জাদেজা নিখুঁত নিশানায় বল পিচ করাতে পারে। উইকেট টেকিং বোলার। গলের পিচ দেখে মনে হচ্ছে, খেলা যত গড়াবে স্পিনাররা জাঁকিয়ে বসবে। সেদিক থেকে আমাদের এই তিন স্পিনার দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।’
গলে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে খোদ মর্নি মর্কেলের। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে এখানে সাতটি উইকেটও নিয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মর্নি বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় আর্দ্রতা অনেক বেশি। প্রচণ্ড গরম রয়েছে। তাই ক্লান্তি সহজেই থাবা বসাতে পারে। সেই কারণে পেসারদের ছোটো ছোটো স্পেলে বল করাতে হবে। শুরুতে কিন্তু জোরে বোলারদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ থাকবে।’
এদিকে, প্রথম টেস্টে বল গড়ানোর আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই শুরু হয়ে গেল দুই শিবিরে। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ধনঞ্জয় ডি সিলভা রীতিমতো হুংকার ছুড়েছেন। স্পিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারদের দুর্বলতার প্রসঙ্গ টেনে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটাররা স্পিন যে ভালো খেলতে পারছে না, সেটা সকলেই জানে। ঘরের মাঠে ঘূর্ণি পিচ বানিয়েও নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। গলে কেমন উইকেট হবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথম টেস্টে তাই চাপে থাকবে টিম ইন্ডিয়া।’ এটা ঠিক, গল টেস্টে শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই ভারতীয় ব্যাটারদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনুশীলনেও তাই স্পিনারদের বিরুদ্ধে নেটে অনেক বেশি সময় কাটিয়েছেন রাহুলরা। তবে চোট সমস্যার কারণে গম্ভীরের প্রথম একাদশ চয়নের কাজটা কঠিন হয়েছে। এমনিতে বুমরাহ নেই। ফলে পেস আক্রমণে শক্তিক্ষয় হয়েছে। তাছাড়া সাই সুদর্শনের শেষ মুহূর্তে ছিটকে যাওয়া বড় ধাক্কা। তাঁর জায়গায় দেবদূত পাদিক্কাল কিংবা ধ্রুব জুরেলকে খেলানো হতে পারে। প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরির সুবাদে পাদিক্কালেরই পাল্লা ভারী।