


সুকান্ত বেরা, চেন্নাই: ভারত অধিনায়ককে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন, কাল কি সঞ্জু স্যামসনকে খেলানো হতে পারে? সূর্যকুমার যাদব আকাশ থেকে পড়লেন। তাচ্ছিল্যের সঙ্গে তাঁর পালটা প্রশ্ন, ‘আপনি বলছেন অভিষেক শর্মার জায়গায়?’ না মানে যদি তিনে... ‘ও আপনি বলছেন তিলক ভার্মাকে বসিয়ে... ’ অট্টহাসি হেসে সূর্য জানালেন, ‘সব তো ভালোই চলছে। পাওয়ার প্লে’তে রান তো উঠছে...।’
এই ঘটনা আমেদাবাদের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার এইটে নামার আগে। গ্রুপ পর্বে চারে চার করার আনন্দে তখন ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। কিন্তু প্রোটিয়া বাহিনীর হাতে ৭৬ রানে দুরমুশ হওয়ার পর টিম ইন্ডিয়ার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। দ্রুত বদলে গেছে সমীকরণ। চিপকের প্রেস বক্সে বসে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুশীলন দেখে যা মনে হল, তাতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচে প্রথম একাদশ পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে ভারত।
সন্ধ্যা ছ’টায় মাঠে নামার কথা ছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। আধ ঘণ্টা আগেই দল নিয়ে মাঠে হাজির কোচ গৌতম গম্ভীর। শুরুতে ফুটবল নিয়ে একটু গা ঘামিয়ে নেওয়ার পর শুরু নেট সেশন। একটা পেসারদের জন্য নির্দিষ্ট। অন্যটায় হাত ঘোরালেন স্পিনাররা। তারমধ্যে সবচেয়ে সক্রিয় অক্ষর প্যাটেল। ঈশান যখন স্পিনারদের বিরুদ্ধে নক করছিলেন, তখন পাশে থ্রো-ডাউন নিলেন সঞ্জু স্যামসন ও সূর্যকুমার। মূলত তিন ও চার নম্বরের অঙ্কই চোখে পড়ছিল। সেটাই যদি হয়, তাহলে তিলক ভার্মার বাদ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। এমনিতেই তাঁর মন্থর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাছাড়া দলে সাত বাঁ হাতি ব্যাটার রাখাও হচ্ছে ব্যুমেরাং। তাই ডানহাতি সঞ্জুকে ফিরিয়ে ডুবতে থাকা টাইটানিকের ছিদ্র ভরাটের কৌশল। অভিষেক, ঈশান, তিলকদের পারফরম্যান্সের যা হাল, তাতে সঞ্জুকে ডাগ-আউটে বসিয়ে রাখা অন্যায়। আসলে দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে ভালো কিছু করার বাড়তি তাগিদও জন্মায়। সঞ্জুর প্র্যাকটিসে সেই ঝাঁঝ এদিন চোখে পড়ল। পেসারদের নেটে সিরাজ ও অর্শদীপকে পর পর দুটো বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে বুঝিয়ে দিলেন মাঠে নামার জন্য তিনি প্রস্তুত।
তবে এদিন অনুশীলনে দেখা গেল না রিঙ্কু সিংকে। তিনি বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। বাবা গুরুতর অসুস্থ। তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে আশ্চর্য লাগল অভিষেক শর্মাকে দেখে। শুরুতে ব্যাট ছুঁয়ে দেখলেন না। জোর দিলেন বোলিংয়ের উপর। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বাদে নেটে ঢুকলেন শিবম দুবের পর। শূন্যের হ্যাটট্রিকের পর গত ম্যাচে কেঁদে কুঁদে ১২ বলে করেছিলেন ১৫। শেষলগ্নে স্থানীয় নেট বোলারদের বিরুদ্ধে অভিষেক যখন প্র্যাকটিস করছিলেন, তখন কড়া দৃষ্টি ছিল ব্যাটিং কোচের। সূর্যকে দেখা গেল সুইপ শটে স্পিনারদের বিরুদ্ধে লড়ছেন। বোঝা যাচ্ছিল, জিম্বাবোয়ের সিকান্দার রাজার বল মাথায় ঘুরছে।
ইডেন পর্যন্ত টিম ইন্ডিয়ার আশা বেঁচে থাকবে কি না, তা বৃহস্পতিবারই ঠিক হয়ে যাবে। টিম ইন্ডিয়া নামবে সন্ধ্যায়। তার আগে খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ম্যাচে ক্যারিবিয়ানরা হারলে সূর্যদের সুবিধা। তখন নেট রান রেটের অঙ্ক হয়ে উঠেবে জরুরি। কিন্তু বৃহস্পতিবার জিম্বাবোয়ের কাছে হারলেই ভারতের বিদায় নিশ্চিত।