কলম্বো: এরচেয়ে মহারণটা না খেললেই বরং ভালো করত পাকিস্তান। অন্তত এভাবে মুখ পুড়ত না! টি-২০ বিশ্বকাপে ন’বারে সাক্ষাতে ৮বারই জয়ী ভারত। মাত্র একবার হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে পাক ব্রিগেড। ‘মওকা, মওকা’ সুরটা এদিনও ব্যঙ্গ হয়েই বাজল!
কলম্বো: এরচেয়ে মহারণটা না খেললেই বরং ভালো করত পাকিস্তান। অন্তত এভাবে মুখ পুড়ত না! টি-২০ বিশ্বকাপে ন’বারে সাক্ষাতে ৮বারই জয়ী ভারত। মাত্র একবার হাসিমুখে মাঠ ছেড়েছে পাক ব্রিগেড। ‘মওকা, মওকা’ সুরটা এদিনও ব্যঙ্গ হয়েই বাজল!
ভারতের সুপার এইটে’র যাত্রাপথ যে এমন প্রবল প্রতাপে হবে, তা অবশ্য গোড়ায় বোঝা যায়নি। শুরুতেই চরম বিস্ময়। অভিষেক শর্মাকে বল করবেন কিনা সলমন আগা! পাকিস্তানের হয়ে অতীতে মাত্র একবারই ইনিংসের পয়লা ওভারে বল করেছিলেন পাক ক্যাপ্টেন। আর সেটা কার্যকরীও হল। ওভারের শেষ ডেলিভারিতে অভিষেককে ফিরিয়ে ভারতীয় শিবিরে মোক্ষম ধাক্কা দিলেন। ক্রমশ দেখা গেল প্রেমদাসার বাইশ গজ স্পিনারদের স্বর্গ। বল আসছে দেরিতে, ঘুরছেও একহাত। ঈশান কিষান ছাড়া কোনও ভারতীয়ের ব্যাটেই ধুমধাড়াক্কা নেই। ইনিংসের কুড়ির মধ্যে ১৮ ওভারই হাত ঘোরালেন পাঁচ পাক স্পিনার। যে দুই ওভার শাহিন শাহ আফ্রিদি বল করলেন, জুটল বেধড়ক ঠ্যাঙানি। বিরতিতে সেজন্যই জল্পনা জোরদার, প্রথম ওভারে মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী আসবেন কিনা! হার্দিক পান্ডিয়ার বল হাতে দৌড়ে আসা তাই মহাচমক এবং সুপারহিট। কে জানত, উইকেট মেডেন নিয়ে বাইশ গজ সম্পর্কে ধারণাই আমূল বদলে দেবেন চুলে সাদা রং করা অলরাউন্ডার! পরের ওভারে যশপ্রীত বুমরাহর জোড়া ধাক্কা ভেন্টিলেশনে ঢুকিয়ে দিল ওয়াঘা পারের প্রতিবেশীকে। স্পিনের স্বর্গেই আগুনে পেসের তুবড়ি জ্বালালেন বুমরাহ-হার্দিক!
অক্ষর প্যাটেলের স্ট্রেটারে বাবর আজমের স্টাম্প ছিটকে যেতে রসিকতা শুরু ক্রিকেটমহলে। মহসিন নাকভিই না নেমে পড়েন ব্যাট হাতে। এ তো স্রেফ ৬১ রানের মহা-পরাজয় নয়, শূর্পনখার মতো পিসিবি প্রধানের নাক কাটা যাওয়াও। কোন কুক্ষণে যে এই ম্যাচটা খেলতে রাজি করিয়েছিলেন পাক সরকারকে। সেখানেও নির্ঘাত মুন্ডুপাত হচ্ছে তাঁর। নাকভিই যে ষড়যন্ত্রীমশাই!
কুড়ি ওভারের কাপযুদ্ধে এই মহারণে কখনও ১৭৫ ওঠেনি। ধীরগতির প্রেমদাসায় ভারতের স্কোর অবশ্য প্রভাবে, তাৎপর্যে দুশোরও বেশি। যার নেপথ্যে অবশ্যই ‘ধুরন্ধর’ ঈশান কিষান। ৮.৪ ওভারে তিনি যখন ফিরছেন, তখন দলের রান ৮৮। এরমধ্যে বাঁ-হাতি ওপেনারেরই ৭৭! বাকিরা যেখানে হোঁচট খাচ্ছেন, মুখ থুবড়ে পড়ছেন, সেখানে ঈশান যেন রোলস রয়েস চালালেন। মনে হচ্ছিল, তাঁর ক্ষেত্রে পিচটাই হয়তো অন্য। বুমরাহ-হাদিকরা আবার প্রমাণ করলেন বল করতে জানলে পেসাররাও তফাত গড়তে জানেন। বাবররা অবশ্য চেনা নাটকেই অভিনয় সারলেন। এই দ্বৈরথে দুরমুশ হওয়াই যে তাঁদের অভ্যাসে পরিণত!