নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে বহু প্রতীক্ষিত ডিএ মামলার রায় ঘোষণা হল। পাশাপাশি এদিন রাজ্য বিধানসভায় পেশ হওয়া বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য এপ্রিল মাস থেকে ৪ শতাংশ হারে বর্ধিত ডিএ ঘোষণা হয়েছে। সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য ডিএ বেড়ে ২২ শতাংশ হচ্ছে। সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। এর সঙ্গে সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং পেনশন প্রাপকরা রাজ্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পে ৭৫ শতাংশ অতিরিক্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। এখন এই আর্থিক সীমা কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সবার জন্যই ২ লক্ষ টাকা। কর্মীস্বার্থে এই ঘোষণাগুলিকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন। বাজেট ঘোষণার পর বিধানসভা চত্বরে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানানো হয় সংগঠনের তরফে। সংগঠনের তরফে আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য রাজ্যে আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী কর্মীদের বিষয়টি বিবেচনা করেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ ও প্রণাম জানাই।
অন্যদিকে ডিএ মামলায় যুক্ত প্রধান দুই সরকারি কর্মী সংগঠন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ও যৌথ সংগ্রামী মঞ্চ এই ডিএ ঘোষণাকে যথেষ্ট বলে মনে করছে না। একই মতামত রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির। কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেছেন, এরপরেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে ডিএর ফারাক ৩৪ শতাংশ রয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার কিছুদিনের মধ্যে আরও ২ শতাংশ ডিএ দেবে। তখন কেন্দ্রীয় সরকারের ডিএ ৬০ শতাংশে পৌঁছবে। কেন্দ্রীয় সরকারের অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ এই ৬০ শতাংশের ভিত্তিতে কার্যকর হবে। যেখানে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ এখন বেড়ে ২২ শতাংশ হবে। এটা বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছালে তবে রাজ্য সরকারের সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হবে। এটা কবে হবে এখন অনিশ্চিত। তবে অনেকসময় লাগবে এটা নিশ্চিত। কিন্তু কেন্দ্রের অষ্টম বেতন কমিশন ও রাজ্যের সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। রাজ্য কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হতে সময় লাগবে। এতে রাজ্যকর্মীদের বঞ্চনা বাড়বে।
প্রতাপবাবু অবশ্য জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেবেন। তাঁরা নিশ্চিত। বেতন কমিশন নিয়েও রাজ্যকর্মীরা বঞ্চিত হবেন না। যৌথমঞ্চের ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, বর্ধিত ডিএ এবং বেতন কমিশন গঠনে সরকারি কর্মীদের বিশেষ কোনো সুবিধা হবে না। সুপ্রিম কোর্ট এদিন যে রায় দিয়েছে, তাতে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার পক্ষ বলা হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মীরা প্রকৃত উপকৃত হবেন এটা হলে।
মলয়বাবু জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ৩১ মার্চের মধ্যে পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। তবে রাজ্য সরকার কী করে, সেদিকে তাঁদের নজর থাকবে। বাকি বকেয়া ডিএ ১৫ মে’র মধ্যে মেটাতেই হবে বলে তাঁর দাবি। ফেডারেশন নেতৃবৃন্দ আশা করছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ব্যাপারে বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে কর্মীস্বার্থে ব্যবস্থা নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠন এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সংগঠনের নেতা মনোজ চক্রবর্তী ডিএ বৃদ্ধি, পে কমিশন গঠন ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় সরকার এবার কার্যকর করবে বলেও আশা করেন তিনি। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদানের স্থায়ী নির্দেশনামা রাজ্যে থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন।