চিত্র ১
চিত্র ১
ইকোস্পেস থেকে যাদবপুরগামী ‘এসি ৯বি’ রুটের সরকারি বাস আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ল নিক্কো পার্কের সামনে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পিছনে দাঁড়িয়ে পড়তে বাধ্য হল অন্যান্য অনেক গাড়ি। যানজট তৈরি হল। জানা গেল, সরকারি বাসের সেন্সর কাজ করছে না। বারবার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্টার্ট নিচ্ছে না। অগত্যা যাত্রীদেরই নেমে সেই বাস ঠেলে রাস্তার ধারে সরাতে হল।
চিত্র ২
বারাসাত থেকে গড়িয়াগামী সরকারি ‘এসি ৩৭’ রুটের বাস। লঝঝড়ে অবস্থা। এসি বাস হলেও বারে বারে খুলে যাচ্ছে দরজা। সন্ধ্যা নামলেও বাসের লাইট জ্বালানো যাচ্ছে না। সবক’টা আলোই খারাপ। মোবাইলের টর্চের আলোয় টিকিট কাটছেন কন্ডাক্টর। ক্ষুব্ধ নিত্যযাত্রীরা মাঝেমধ্যেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সরকারি পরিবহণের বেহাল অবস্থা নিয়ে।
কী বলছেন নিত্যযাত্রীরা?
সরকারি বাস রাস্তা থেকে প্রায় উঠেই গিয়েছে। করোনার আগে পর্যন্ত অনেক ভালো পরিষেবা ছিল। এখন খুব খারাপ অবস্থা। নির্দিষ্ট সময়ে বাস পাওয়া যায় না। পেলেও সেই বাসের বেহাল দশা। এসি বাসগুলির অবস্থা আরও খারাপ। ভাড়া অবশ্যই বাড়ানো দরকার। সেই সঙ্গে প্রয়োজন রাস্তায় বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি।
দিবাকর সেনগুপ্ত
সেলস কর্মী
ক’বছর আগেও সরকারি বাসের পরিষেবা এত ভালো ছিল যে বেসরকারি বাসের উপর নির্ভর করতেই হতো না। আর এখন ঠিক উল্টো অবস্থা। ভাড়া বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। ভাড়া বাড়িয়ে বাসগুলির হাল ফিরিয়ে আরও বেশি সংখ্যায় বাস নামানো হোক। তাহলেই আম জনতা স্বস্তি পাবে। বন্ধ হবে বেসরকারি বাসের যথেচ্ছভাবে ভাড়া নেওয়াও।
কেশব দাস
ব্যবসায়ী
সরকারের কাছে টাকা নেই। ইলেকট্রিক বাসে নিয়মিত চার্জ
দিতে হয়। কারেন্টের বিল বেড়ে গিয়েছে। পেট্রল-ডিজেলের দামও বেড়েছে। এত কম ভাড়ায় বাস চালিয়ে লাভ হচ্ছে না বলে শুনছি। চালক, কন্ডাক্টরদের বেতনও নাকি ঠিকমতো হচ্ছে না। ভালো পরিষেবা পেলে একটু বেশি ভাড়া দিতে সাধারণ মানুষ রাজি। সরকারের কাছে একটাই দাবি, ভাড়া বাড়ুক। তার সঙ্গে রাস্তায় বাসও বাড়ুক।
অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
শিক্ষিকা
২০ থেকে ২৫ টাকার টিকিটে এসি বাস! আজকাল এই টাকায় কিছু হয়, বলুন তো? ভাড়া বাড়ুক। অন্তত ৩০ টাকা ভাড়া করাই যায়। রাস্তায় আরও বেশি সংখ্যায় সরকারি বাস পাওয়া গেলে ভাড়া কিছুটা বাড়লেও গায়ে লাগবে না। বাসগুলির বেহাল দশাও কাটবে। ভাড়া বাড়লে বাসগুলির রক্ষণাবেক্ষণ যদি ঠিকমতো হয়, সেটাও ইতিবাচক হবে। ভালো পরিষেবার শর্তে ভাড়া একটু বাড়লে তেমন কারও সমস্যা হবে না।
রাখি দেবনাথ
আইটি কর্মী
বেসরকারি বাসের ভাড়া বেআইনিভাবে বেড়েছে। সরকারি বাস রাস্তায় না পেয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি বাসে যাচ্ছে। সেখানে সরকারি বাস আগের মতো পর্যাপ্ত সংখ্যায় রাস্তায় থাকলে মানুষ বেসরকারি পরিষেবার দিকে যাবে না। তাই সরকারি বাসের ভাড়া কিছুটা হলেও বাড়ানো দরকার। বাস বাড়লে রাতবিরেতে কাজ থেকে বাড়ি ফিরতে আমাদেরও সুবিধা হয়।
রিনা খাতুন
শপিং মলে কর্মরত
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। তিনি আম জনতার উপর বোঝা চাপাতে চান না। তবে, আপনাদের আশ্বস্ত করছি, রাজ্য সরকার অনেক নতুন বাস কিনছে। সেগুলি দ্রুত রাস্তায় নামবে। সরকারি বাসের পরিষেবা আরও ভালো হবে।
স্নেহাশিস চক্রবর্তী পরিবহণমন্ত্রী